ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে মরক্কো। চিলির ভালপারাইসোতে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে হারিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করে আফ্রিকান দেশটি। ম্যাচের নায়ক ছিলেন তৃতীয় গোলরক্ষক আবদেল হাকিম এল মেসবাহি, যিনি আগে পর্যন্ত দলের হয়ে একটিও ম্যাচ খেলেননি।
মরক্কোর নিয়মিত গোলকিপার ইয়ানিস বেনশাউশ ম্যাচের শুরু থেকে মাঠে থাকলেও ৬৪ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। তার জায়গায় নামানো হয় দ্বিতীয় গোলরক্ষক ইব্রাহিম গোমিজকে। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোরলাইন ছিল ১-১। টাইব্রেকারের আগে শেষ মুহূর্তে (১২০+৫ মিনিটে) মরক্কো কোচ মোহাম্মদ উয়াহবি কৌশল বদলে তৃতীয় গোলরক্ষক মেসবাহিকে নামান, যার পানির বোতলে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের ছবি ও সম্ভাব্য শট নেওয়ার দিক নির্দেশনা লেখা ছিল।
এই পরিকল্পনা সফল হয়। ফ্রান্সের শেষ শটটি রুখে দেন মেসবাহি, ফলে মরক্কো জয় পায় ৫-৪ গোলে। এর আগে ফ্রান্সের বিপক্ষে ২০২২ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরেছিল মরক্কো। এবার সেই হারের প্রতিশোধ নিল যুবা দলটি।
ম্যাচে ৩২ মিনিটে ফ্রান্সের গোলকিপার লিসান্দ্রো ওলমেতার আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। তবে ৫৯ মিনিটে ফ্রান্স সমতায় ফেরে উইঙ্গার লুকাস মিচালের গোলে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় এনে ইতিহাস গড়ে মরক্কো।
মরক্কো কোচ উয়াহবি ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমরা ধৈর্য ধরে খেলেছি এবং সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। এটা শুধু জয় নয়, মরক্কোর ফুটবলের ইতিহাসে এক আবেগময় অধ্যায়। তবে এখনো কাজ শেষ হয়নি—আমরা ফাইনাল জিততে চাই।’
ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, যারা অন্য সেমিফাইনালে কলম্বিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার ভোরে সান্তিয়াগোতে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচটি।
এ টুর্নামেন্টে মরক্কোর যাত্রা ছিল চমকপ্রদ। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও ব্রাজিলকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ ষোলোতে ওঠে দলটি। এরপর দক্ষিণ কোরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছায় তারা। এর আগে ২০০৫ সালের আসরে চতুর্থ স্থান ছিল মরক্কোর সর্বোচ্চ অর্জন।

















