নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য দেশটিকে ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। তবে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটের চারটি সহকারী হাইকমিশন পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিষয়টি কিছুদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। বিশেষ করে উগ্র ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
এক কর্মকর্তা জানান, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাইকমিশন ও চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের নির্ভরশীল সদস্যদের ভারতে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ তাঁরা আবার বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে নিযুক্ত মোট কতজন ভারতীয় কূটনীতিক আছেন, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য ‘নন-ফ্যামিলি পোস্টিং’ সবচেয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে পাকিস্তানও ভারতের জন্য একটি সীমিত পারিবারিক পোস্টিংয়ের তালিকায় রয়েছে, যেখানে কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুধু জীবনসঙ্গীদের থাকার অনুমতি রয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিছু উগ্র ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং পাকিস্তানি ঘনিষ্ঠ কিছু উপাদানের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ভারত আগেও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে, যদিও ঢাকার পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় উভয় দেশের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত মাসে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের বাইরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে।
এর মধ্যেই আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনা থাকা বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে ভারত। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন এবং তাঁর ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ পদক্ষেপকে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
















