শরিয়াহ নীতিমালার দোহাই; ১০ হাজার কোটি টাকার দায় কমানোর লক্ষ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
সদ্য গঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-র আমানতকারীদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের কোনো মুনাফা না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন শাখায় আমানতকারীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, লোকসানি ব্যাংক মুনাফা দিতে পারে না।
২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একীভূত হওয়া পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের (ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক) আর্থিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি শরিয়াহ নীতিমালার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আমানতকারীদের মূল টাকা পুরোপুরি সুরক্ষিত রয়েছে।
সিদ্ধান্তের মূল কারণ ও প্রভাব:
- শরিয়াহ নীতি: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যাংক যখন লোকসানে থাকে তখন শরিয়াহ অনুযায়ী মুনাফা বণ্টন করা সম্ভব নয়। মুনাফা দিলে তা শরিয়াহ পরিপন্থী হবে।
- আর্থিক বোঝা হ্রাস: এই সিদ্ধান্তের ফলে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার দায় কমবে। সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, এই ব্যাংকগুলোতে ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে।
- আমানতকারীর সংখ্যা: প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রভাবিত হচ্ছেন। তবে গভর্নর আশ্বস্ত করেছেন যে, ফেব্রুয়ারির পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমানতকারীরা তাঁদের মূল টাকা ফেরত পাওয়া শুরু করবেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ব্যাংকগুলোর উদ্বেগ:
| বিষয় | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| আক্রান্ত ব্যাংকসমূহ | ফার্স্ট সিকিউরিটি, সোশ্যাল ইসলামী, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক। |
| মুনাফাবিহীন সময়কাল | ১ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। |
| মোট আমানতকারী | প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহক। |
| কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান | সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে না; একীভূতকরণ সফল করতে এটি প্রয়োজনীয়। |
মুনাফা বাতিলের খবরে অনেক শাখায় গ্রাহকরা দিনভর অবস্থান নিচ্ছেন এবং কর্মকর্তাদের সাথে বাদানুবাদে জড়াচ্ছেন। কিছু এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়েছে। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হলেও গভর্নর তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
















