ইসলামী আন্দোলনের জোট ত্যাগ ও ২৬৮ আসনে একক প্রার্থিতা ঘোষণা ইসলামপন্থী ভোটের ‘এক বাক্সে’ পড়ার সম্ভাবনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আসন সমঝোতায় বনিবনা না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে, যা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ও ভোটব্যাংকে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্ন সফর শেষে দেশে ফিরে নির্বাচনের আমেজটা বেশ স্পষ্টভাবেই চোখে পড়ছে। প্রবাসীদের মনে এক সময় ‘নির্বাচন হবে কি না’ তা নিয়ে সংশয় থাকলেও, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর এখন সবাই ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে নির্বাচনের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের ভাঙন এবং নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ।
জামায়াতের ১০ দলীয় জোট ও আসন ভাগাভাগি
অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০টি দল নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছে। ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী:
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ১৭৯টি আসনে লড়বে।
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ৩০টি আসন।
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস: ২০টি আসন।
- খেলাফত মজলিস: ১০টি আসন।
- এলডিপি: ৭টি, এবি পার্টি: ৩টি এবং অন্যান্যরা বাকি আসনগুলোতে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। জামায়াত শুরুতে ১১টি দলকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করলেও, আসন সমঝোতা এবং আদর্শিক দ্বন্দ্বে চরমোনাই পীরের দল জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে তারা ২৬৮টি আসনে এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।
ইসলামপন্থীদের সব ভোট ‘এক বাক্সে’ নেওয়ার যে পরিকল্পনা জামায়াত করেছিল, তা এখন ভেস্তে যাওয়ার পথে। যদিও ইসলামী আন্দোলন এককভাবে জয়ী হওয়ার মতো শক্তিশালী কি না তা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে প্রতিটি আসনে তাদের যে নির্দিষ্ট ভোট রয়েছে, তা জয়-পরাজয় নির্ধারণে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের দল হিসেবে পরিচিত এনসিপি-র অবস্থান নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে তারা জাতীয় পার্টির প্রার্থিতা বাতিলের দাবি তুলছে, অন্যদিকে জোটে এমন কিছু দলের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে যারা বিগত বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়েছিল। এই স্ববিরোধী অবস্থান ভোটাদের মধ্যে কেমন প্রভাব ফেলে, তা দেখার বিষয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল লড়াইটি হতে যাচ্ছে বিএনপি ও তার মিত্রদের সঙ্গে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অতি-আত্মবিশ্বাস যেমন তাদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল, এবারও কোনো দল যদি মনে করে জয় তাদের হাতের মুঠোয়, তবে তা আত্মঘাতী হতে পারে। আওয়ামী লীগহীন এই নির্বাচনে ভোটের হিসাব-নিকাশ যে কোনো সময় পাল্টে যেতে পারে।














