ওড়িশা ও বিহারে মুসলিম যুবক এবং কেরালায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে হত্যার তীব্র নিন্দা; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ঢাকার
ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা, গণপিটুনি এবং নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ওড়িশা, বিহার ও কেরালাসহ বিভিন্ন রাজ্যে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো এই সহিংসতাকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা।
২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | দুপুর ০৩:১৫ মিনিট
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস এম মাহবুবুল আলম ভারতের সংখ্যালঘু পরিস্থিতির ওপর বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের মর্যাদা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খতিয়ান
মুখপাত্র মাহবুবুল আলম সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন:
- ওড়িশার সহিংসতা: ওড়িশা রাজ্যে জুয়েল রানা নামে এক মুসলিম যুবককে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
- বিহারে হত্যাকাণ্ড: বিহারে মুহাম্মদ আতাহার হোসেনের ওপর চালানো পাশবিক হামলা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে ঢাকা উদ্বিগ্ন।
- কেরালা পরিস্থিতি: কেরালায় ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে একজন নিরীহ ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে।
বড়দিনে খ্রিস্টানদের ওপর হামলা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহে বড়দিন উদযাপন চলাকালীন ভারতজুড়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর যে গণসহিংসতা ও ধর্মীয় আচার পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা দেশটিতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধির বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও ভারতের দায়িত্ব
ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র বলেন, “আমরা প্রত্যাশা করি, ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনবে। প্রত্যেক দেশেরই দায়িত্ব তার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সুরক্ষা ও মর্যাদা দেওয়া। আমরা আশা করি ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এই দায়িত্ব পালন করবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন নেতার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে দিল্লির নিজ দেশের অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলো নিয়ে ঢাকার এই অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
















