কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনী দুই দেশের সীমান্তবর্তী ক্যাসিনো শহর পইপেটে বোমা হামলা চালিয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বানতেই মিয়ানচে প্রদেশে অবস্থিত এই শহরটি থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ১১টার দিকে থাই বাহিনী পইপেট পৌর এলাকায় দুটি বোমা ফেলেছে। তবে এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান হামলায় দেশটির অন্তত চারটি ক্যাসিনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পইপেট থাই নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয় একটি জুয়ার কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত।
চলতি মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে থাইল্যান্ডে অন্তত ২১ জন এবং কম্বোডিয়ায় ১৭ জন নিহত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই লড়াইয়ের কারণে প্রায় আট লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার জানিয়েছে, কম্বোডিয়া সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় পইপেটে পাঁচ থেকে ছয় হাজার থাই নাগরিক আটকা পড়ে আছেন। এ বিষয়ে কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্ত বন্ধ করা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছিল। তবে যারা দেশ ছাড়তে চান, তাদের জন্য আকাশপথ খোলা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত জুলাই মাসে টানা পাঁচ দিনের সংঘর্ষে উভয় দেশে বহু মানুষ নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে দাবি করেছিলেন, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকক সে দাবি অস্বীকার করে জানায়, কোনো যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়নি। এরপর থেকে কামান, ট্যাংক, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে প্রতিদিনই সংঘর্ষ চলছে।
দুই দেশের বিরোধের মূল কারণ প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের ঔপনিবেশিক আমলের সীমারেখা এবং সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত কয়েকটি প্রাচীন মন্দির নিয়ে মালিকানা দাবি। সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করছে এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ তুলছে।
এদিকে চীন জানিয়েছে, শান্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এশীয় বিষয়ক বিশেষ দূতকে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে পাঠানো হচ্ছে। দেশটি বলেছে, দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমাতে এবং সংঘাত প্রশমনে ‘শাটল কূটনীতি’ চালানো হবে।















