চাঁদা দিতে অস্বীকৃতির জেরে বায়েজিদে ২০–২১ রাউন্ড গুলিবর্ষণ, আতঙ্কে এলাকা
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় সাবেক ছাত্রদল নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে রাতের আঁধারে ২০–২১ রাউন্ড এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোই এই হামলার মূল কারণ বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বালুছড়া উত্তর কুলগাঁও এলাকায় সাবেক ছাত্রদল নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাত প্রায় ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি সোমবার রাতে প্রকাশ্যে আসে। এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
গুলির লক্ষ্য হওয়া ব্যক্তি হলেন আহমেদ রেজা বাবু, তিনি বায়েজিদ বোস্তামী থানা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি। তাঁর প্রয়াত বাবা ফরিদ উদ্দিন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদা দাবি প্রত্যাখ্যান করায় এই হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বালুছড়া উত্তর কুলগাঁও এলাকায় ফরিদ মেম্বারের বাড়ির পাশে একটি খালি জায়গায় সীমানা দেয়াল নির্মাণের কাজ চলছিল। এই কাজের ঠিকাদার ছিলেন মো. জনি।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ১০–১১ জন যুবক বিদেশে পালিয়ে থাকা সাজ্জাদ আলী খানের নাম ব্যবহার করে ঠিকাদার জনির কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি জনি তার পরিচিত আহমেদ রেজা বাবুকে জানান। বাবু ঘটনাস্থলে এসে টাকা চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তারা ‘চা-নাস্তার’ টাকার কথা বলে। তখন বাবু দুই হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং ঠিকাদার তিন হাজার টাকা দিতে চাইলে তারা তা না নিয়ে চলে যায়।
এরপর থেকেই বিদেশি দুটি নম্বর থেকে একাধিকবার হুমকি ফোন পান বাবু। রোববার রাত ১০টার দিকে চার যুবক এসে বাবুর বাড়ি লক্ষ্য করে ২০–২১ রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এতে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর থেকে আহমেদ রেজা বাবু ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছেন। যদিও তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন,
“এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলিবর্ষণের ঘটনায় ‘সন্ত্রাসী’ সারোয়ার বাবলা নিহত হন এবং আরও চারজন গুলিবিদ্ধ হন। সেই ঘটনার সঙ্গেও বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল।
















