বাণিজ্য, সামুদ্রিক সংযোগ ও আসিয়ান সদস্যপদ নিয়ে সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিথিপর্ন চিরাসাওয়াদি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আসিয়ান সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিথিপর্ন চিরাসাওয়াদি। রোববার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ–থাইল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, সামুদ্রিক সংযোগ, অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধ, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং নাগরিক পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় করেন। উভয় দেশ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস থাইল্যান্ডের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত থাই রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বকালীন সময়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের আসিয়ান সদস্যপদ অর্জনের উদ্যোগের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে। এ লক্ষ্যে থাইল্যান্ডের সমর্থন প্রত্যাশা করেন তিনি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আসিয়ানের আঞ্চলিক সংলাপ অংশীদার হওয়ার জন্য আবেদন করেছে।
থাই রাষ্ট্রদূত থিথিপর্ন চিরাসাওয়াদি জানান, ব্যাংকক বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী। তাঁর মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে থাই বিনিয়োগ বাড়বে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে।
তিনি আরও জানান, থাইল্যান্ডের রানং বন্দর ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সরাসরি শিপিং রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের শিপিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে এবং সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মার্চ মাস থেকে এই নৌপথে পণ্য পরিবহন শুরু হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য থাইল্যান্ডে ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও বিস্তৃত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগ্রহ ও যাতায়াত ক্রমেই বাড়ছে, যা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর করছে।
















