আফগানিস্তানের ক্রীড়াঙ্গন আজ এক গভীর অন্ধকারে ডুবছে, আর সেই অন্ধকার ভেদ করে আলো ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির আফগান সদস্য সামিরা আসগারি। মেয়েদের শিক্ষা ও খেলাধুলায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে তালেবানকে রাজি করানোই এখন তার প্রধান দায়িত্ব—এমনটাই জানালেন তিনি।
৩১ বছর বয়সী আসগারি বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাসনে থাকলেও, তালেবান সরকারের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। কারণ তার মতে, এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো কথা বলা, বোঝানো, এবং ছোট্ট হলেও পথ খোঁজা।
তালেবান সরকার ১২ বছরের বেশি বয়সী মেয়েদের স্কুলে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছে। নারীদের বেশিরভাগ চাকরি, সরকারি সেবা ও খেলাধুলা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। ২০১৮ সালে আফগানিস্তানের প্রথম আইওসি সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করা আসগারি জানালেন, নারী খেলোয়াড়দের জন্য কথা বলা মানেই ঝুঁকি নেওয়া, কিন্তু এই লড়াই তিনি থামাতে রাজি নন।
“নারীর অধিকারের পক্ষে দাঁড়ালে আপনি লক্ষ্যবস্তু হয়ে যান। তবুও আমি বিশ্বাস করি কথোপকথন দরকার,” এএফপিকে ইমেইলে বলেন তিনি। “তালেবান যখন বাস্তবতা, তখন বসে থাকার সুযোগ নেই।”
তার অবস্থান স্পষ্ট—এ আলাপ কোনো সরকারের বৈধতা দেওয়ার জন্য নয়, বরং আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ন্যূনতম সম্ভাবনার দরজা খুলে রাখা।
আসগারি জানান, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় ছড়িয়ে থাকা আফগান নারী খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গোছানো কঠিন। তবুও “আফগান উইমেন ইউনাইটেড” নামে একটি নারী ফুটবল দল সম্প্রতি মরক্কোতে ফিফার আয়োজিত নারী সিরিজে অংশ নিয়েছে, যা তার কাছে এক ক্ষুদ্র কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তার আশা, ফিফা ও আইওসি একসঙ্গে তালেবানের সঙ্গে আলোচনায় এগোবে, যাতে খেলাধুলা নারী অধিকার আদায়ের এক মাধ্যম হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, “তালেবান দেশ পেয়েছে, কিন্তু নারী অধিকার উপেক্ষা করে তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা মানবাধিকার রক্ষার ওপরই নির্ভর করছে।”
রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে অংশ নিতে গিয়ে আসগারি কিছু আশার আলো দেখেছেন। তার মতে, ছোট্ট সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে হবে—যেমন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের খেলাধুলা চালুর মতো উদ্যোগ।
“এটা তালেবানের নিষেধাজ্ঞা মানার বিষয় নয়। বরং মেয়েদের হারিয়ে যেতে না দেওয়ার জন্য যে পথ পাওয়া যায় সেটিকেই আঁকড়ে ধরা,” বলেন তিনি।
তালেবানের আগের শাসনকালে (১৯৯৬–২০০১) নারীরা যে ক্ষতি সয়েছিল, তা আবার ফিরে আসছে বলে আশঙ্কা তার। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “আমি যখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে, আমার পাশে ছিল ২০ বছরের এক তরুণী, যিনি তালেবানের নিষেধাজ্ঞার কারণে আগে স্কুলে যেতে পারেননি। সেই হারানো সময়ের যন্ত্রণা আজও আমি ভুলতে পারি না।”
আজ আবারো এমন একটি ‘হারানো প্রজন্ম’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কায় কাঁপছেন তিনি। তবুও আশা ছাড়েননি।
“আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ ওই তরুণ প্রজন্ম। তাদের জন্য যত সুযোগ দেওয়া যায়, যত ছোটই হোক, দিতে হবে। কখনো হাল ছাড়া যাবে না,” বলেন আসগারি।
আলোচনার পথ দীর্ঘ, প্রতিকূল; তবুও তার বিশ্বাস—এই ছোট ছোট আলোই একদিন অন্ধকারকে পরাজিত করবে।
















