ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজধানীর বিজয়নগরের ব্যস্ত সন্ধ্যায় হঠাৎ ছড়িয়ে পড়া গুলির শব্দ যেন ছিন্নভিন্ন করে দেয় রাজনৈতিক আবহের নীরবতা। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদি যখন দুর্বৃত্তদের বুলেটে রক্তাক্ত হয়ে পড়েন, তখন সেই খবর পৌঁছে যায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে। এই বর্বর ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে এমন হিংস্রতা দেশের গণতান্ত্রিক পথ চলাকে দুঃখজনকভাবে কলুষিত করে।
প্রধান উপদেষ্টা আঘাতপ্রাপ্ত ওসমান হাদির চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক ও সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। চিকিৎসা সেবার প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে তদারকি করতে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষ নির্দেশনা পাঠিয়েছেন, যেন কোনো অবহেলা বা দেরি তার জীবনের লড়াইকে আরও কঠিন না করে তোলে।
এর পাশাপাশি তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ভাষায় বলেছেন—এই হামলার প্রতিটি ছায়া, প্রতিটি ইঙ্গিত, প্রতিটি পরিকল্পনা খুঁজে বের করতে হবে। ঘটনাস্থলের আলামত থেকে শুরু করে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সম্ভাব্য সংগঠিত ষড়যন্ত্র—সবকিছু দ্রুত তদন্তের আওতায় আনতে হবে, এবং জড়িত যেকোনো ব্যক্তিকে আইনের সামনে হাজির করতেই হবে।
প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, নির্বাচনকে বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত করার কোনো প্রয়াস সহ্য করা হবে না। জনগণের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক প্রার্থীদের অবাধ চলাচল, এবং নির্বাচনী পরিবেশের শান্তি—সবকিছু রক্ষা করা রাষ্ট্রের অঙ্গীকার। তিনি সতর্ক করেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে, কারণ ন্যায়বিচারের পথ কখনো থেমে থাকতে পারে না।
তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দল, কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাইকে সংযম ও শান্ত থাকার আহ্বান জানান। আসন্ন নির্বাচনকে যাতে ভয়ের নয়, আস্থার আলোয় আলোকিত করা যায়—সেই আহ্বানই যেন বারবার প্রতিধ্বনিত হয় তার বক্তব্যে।
















