হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের মানুষ; টানা পাঁচ দিনের ঠান্ডার পর তাপমাত্রায় আরও পতন
আজ সকাল ৯টায় তাপমাত্রা নেমে আসে ৮.৯°C—আবহাওয়া অফিস বলছে, শৈত্যপ্রবাহ চলছে।
উত্তরের হিমকন্যা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় শীতের দাপট আরও বেড়েছে। পৌষ আসার আগেই হাড়কাঁপানো শীত নেমে এসেছে উত্তর জনপদে। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তাপমাত্রা দ্রুত কমতে থাকে—সকাল ৬টায় ৯.২°C, আর সকাল ৯টায় তা নেমে আসে ৮.৯°C–এ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ এখনো প্রবাহিত হচ্ছে।
এ সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল যথাক্রমে ৯৯% ও ৭৮%, যা শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে দেখা গেছে, ভোরে হালকা কুয়াশা ছড়িয়ে থাকলেও সূর্যের আলো ঠান্ডা ভেদ করতে পারেনি; উত্তরীয় বাতাসে শীত অনুভূত হচ্ছে আরও বেশি।
নিম্ন আয়ের মানুষের দুঃসহ দিনকাল
ঠান্ডা উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে চা বাগান, কৃষিখেত, পাথরের কাজ ও দিনমজুরির কাজে বের হতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষদের।
চা ও পাথর শ্রমিকরা বলছেন—
“কয়েকদিন ধরেই ঠান্ডা বাড়ছে, আজ আরও বেশি। রোদ উঠলেও তাপ নেই। কাজে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু সর্দি–কাশিতে ভুগছি।”
ভ্যান–অটোচালকদের উপার্জনও কমে গেছে। যাত্রীরা ঠান্ডার কারণে বাহনে উঠতে অনীহা দেখাচ্ছেন।
বয়োবৃদ্ধদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। তেঁতুলিয়ার বুড়াবুড়ি এলাকার এক বৃদ্ধ বলেন—
“যুবকদের জন্য শীত সহনীয় হলেও আমাদের জন্য বেশ কষ্টকর।”
আবহাওয়া অফিস ও প্রশাসনের বক্তব্য
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান—
“গত পাঁচ দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির ঘরে ছিল। আজ তা আরও নেমে ৮.৯ ডিগ্রিতে এসেছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে।”
জেলা প্রশাসক কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন—
“তেঁতুলিয়া হিমালয়ঘেঁষা অঞ্চল হওয়ায় শীত বেশি। এখন পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। আরও লক্ষাধিক মানুষের জন্য শীতবস্ত্র চেয়ে মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।”















