অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টায় গ্রেপ্তার— ৬০ ঘণ্টা শিকলে বেঁধে পরিবহনের অভিযোগ; মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা
মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে ৩১ বাংলাদেশিকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত আসা কর্মীরা জানান, দীর্ঘ সময় হ্যান্ডকাফ ও শেকলে বেঁধে রাখার অভিজ্ঞতা ছিল ‘অমানবিক’।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইট হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে তাদের গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাক।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগ নোয়াখালীর বাসিন্দা, এছাড়া সিলেট, ফেনী, শরিয়তপুর ও কুমিল্লার শ্রমিকরাও রয়েছেন। তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ প্রায় ৬০ ঘণ্টা হাতে হ্যান্ডকাফ এবং কোমর–পায়ে শেকল পরিয়ে তাদের পরিবহন করেছে— যা তারা ‘অমানবিক আচরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঢাকায় পৌঁছানোর পরই তাদের শেকল খুলে দেওয়া হয়।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ফেরত আসা ৩১ জনের মধ্যে অন্তত ছয়জন বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিল গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তিনি জানান, বৈধ নথি না থাকা অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো আইনি প্রক্রিয়া হলেও, দীর্ঘসময় হাতকড়া ও শেকলে বেঁধে রাখা মানবাধিকারের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতির আড়ালে অনেকেই ৩০–৩৫ লাখ টাকা খরচ করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ‘ঝুঁকিপূর্ণ রুটে’ প্রবেশ করছেন— এবং শেষ পর্যন্ত শূন্য হাতে ফিরে আসছেন। সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর জবাবদিহির দাবি জানান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। এর অংশ হিসেবে একাধিক চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইটে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। চলতি বছরই এখন পর্যন্ত ২২৬ জন বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত পাঠিয়েছে।
এর আগে ২৮ নভেম্বর ৩৯ জন এবং ৮ জুন ৪২ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়। মার্চ–এপ্রিল ২০২৫ সময়কালে আরও অন্তত ৩৪ জনকে দেশান্তর করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত ফেরত পাঠানো বাংলাদেশির সংখ্যা ২২০ ছাড়িয়েছে।
মার্কিন আইনে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারীদের আদালতের রায় অথবা প্রশাসনিক আদেশে ফেরত পাঠানো যায়। আশ্রয় আবেদন বাতিল হলে আইসিই (ICE) অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করে থাকে, যার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চার্টার্ড ও সামরিক ফ্লাইট ব্যবহারের হার বেড়েছে।
















