Dhaka ০৯:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: ডেপুটি স্পিকার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:০৮:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার দেখা হয়েছে

আজকের উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আগামী দিনের সুসংহত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফিউচার বাংলাদেশ’ কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বক্তব্য প্রদানকালে কায়সার কামাল উল্লেখ করেন যে, আমাদের সকলকে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে, যেখানে পূর্ণাঙ্গ আইনের শাসন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং সর্বস্তরের নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার সুনিশ্চিত হবে। তরুণদের কেবল প্রচলিত জিপিএ-৫ অর্জনের অন্ধ প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং তাঁদের সুপ্ত মেধা ও অনন্য উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিবাচক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যেখানে মানুষ যথার্থ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, সার্বিক মানবিক গুণাবলির চর্চা জোরদার করবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সর্বদা সমুন্নত রাখবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আন্দোলনে তরুণদের অভূতপূর্ব অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসজুড়ে অর্জিত বড় বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এ দেশের তরুণেরাই। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) সংকলিত চূড়ান্ত তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক সফল গণ-অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের বড় একটি অংশই ছিলেন উদীয়মান তরুণ। মূলত সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সমান অধিকার আদায়ের দাবিতেই তরুণেরা বারবার রাজপথে নেমে এসেছেন।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ২০০৬ সালের পরবর্তী সময় হতে দেশের বহুমুখী উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সূচকে বাংলাদেশ আশঙ্কাজনকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুদায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে। একই সাথে তিনি দেশের তরুণ সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক মানের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে বিদেশে পাড়ি জমালেও পরবর্তীতে অর্জিত জ্ঞান নিয়ে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে এসে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। পাশাপাশি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতি প্রতিরোধে তরুণদের সর্বদা সোচ্চার থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সাথে তরুণদের পরিচয় করিয়ে দিতে তিনি শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতের ভিন্নতা থাকাটা অতি স্বাভাবিক। কেউ কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করলে তাঁর যুক্তি ও চিন্তাধারা ধৈর্যসহকারে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তাঁর মতে, যোগ্য নেতৃত্বের অর্থ কেবল নিজে নেতৃত্ব কুক্ষিগত করে রাখা নয়, বরং সহকর্মীদেরও বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া, যার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং অর্থবহ সহযোগিতার পথ সুগম হয়।

উল্লেখ্য যে, বর্ণাঢ্য এই দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মডেল জাতিসংঘ সম্মেলনের প্রথম দিনেই দেশের ৬৪টি জেলা হতে আগত ২০০টিরও বেশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ জন তরুণ প্রতিনিধি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অংশগ্রহণ করছেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশিষ্ট উপদেষ্টা ও অফিশিয়াল মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

তরুণদের নেতৃত্বেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ: ডেপুটি স্পিকার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৫:০৮:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আজকের উদীয়মান তরুণ প্রজন্মের সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই আগামী দিনের সুসংহত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ফিউচার বাংলাদেশ’ কর্তৃক আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন) সম্মেলনের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বক্তব্য প্রদানকালে কায়সার কামাল উল্লেখ করেন যে, আমাদের সকলকে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে, যেখানে পূর্ণাঙ্গ আইনের শাসন, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং সর্বস্তরের নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার সুনিশ্চিত হবে। তরুণদের কেবল প্রচলিত জিপিএ-৫ অর্জনের অন্ধ প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং তাঁদের সুপ্ত মেধা ও অনন্য উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ইতিবাচক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কাজে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যেখানে মানুষ যথার্থ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, সার্বিক মানবিক গুণাবলির চর্চা জোরদার করবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সর্বদা সমুন্নত রাখবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আন্দোলনে তরুণদের অভূতপূর্ব অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসজুড়ে অর্জিত বড় বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এ দেশের তরুণেরাই। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের (ওএইচসিএইচআর) সংকলিত চূড়ান্ত তথ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক সফল গণ-অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের বড় একটি অংশই ছিলেন উদীয়মান তরুণ। মূলত সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সমান অধিকার আদায়ের দাবিতেই তরুণেরা বারবার রাজপথে নেমে এসেছেন।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ২০০৬ সালের পরবর্তী সময় হতে দেশের বহুমুখী উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সূচকে বাংলাদেশ আশঙ্কাজনকভাবে পিছিয়ে পড়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুদায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে। একই সাথে তিনি দেশের তরুণ সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক মানের এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে সাময়িকভাবে বিদেশে পাড়ি জমালেও পরবর্তীতে অর্জিত জ্ঞান নিয়ে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরে এসে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার। পাশাপাশি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতি প্রতিরোধে তরুণদের সর্বদা সোচ্চার থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

জাতীয় নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সাথে তরুণদের পরিচয় করিয়ে দিতে তিনি শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক ও আদর্শিক মতের ভিন্নতা থাকাটা অতি স্বাভাবিক। কেউ কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করলে তাঁর যুক্তি ও চিন্তাধারা ধৈর্যসহকারে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। তাঁর মতে, যোগ্য নেতৃত্বের অর্থ কেবল নিজে নেতৃত্ব কুক্ষিগত করে রাখা নয়, বরং সহকর্মীদেরও বিকশিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া, যার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পায় এবং অর্থবহ সহযোগিতার পথ সুগম হয়।

উল্লেখ্য যে, বর্ণাঢ্য এই দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মডেল জাতিসংঘ সম্মেলনের প্রথম দিনেই দেশের ৬৪টি জেলা হতে আগত ২০০টিরও বেশি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০০ জন তরুণ প্রতিনিধি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে অংশগ্রহণ করছেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশিষ্ট উপদেষ্টা ও অফিশিয়াল মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডোলান্ড বক্তব্য উপস্থাপন করেন।