বছরে ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গোপসাগরের তলদেশ দিয়ে নির্মিত জ্বালানি তেলের পাইপলাইন প্রকল্পটি অপারেটর নিয়োগের জটিলতায় এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
সাশ্রয়ের বদলে অলস পড়ে থাকা এই প্রকল্পের জন্য সরকারকে প্রতি মাসে ৬৬ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে। গত বছরের জুলাই মাসে মহেশখালীতে গভীর সমুদ্রের নিচ দিয়ে জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে খালাসের জন্য ‘সিঙ্গেল পয়েন্ট ম্যুরিং’ বা এসপিএম প্রকল্প চালু করা হয়, কিন্তু এক বছরেও এর সুফল মেলেনি।
প্রকল্পটির আওতায় প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ দুটি পাইপলাইন বসানো হয়। আগে আমদানি করা জ্বালানি তেল বড় জাহাজ থেকে ভাড়া করা লাইটার জাহাজে করে ইস্টার্ন রিফাইনারির ট্যাংকে আনতে ১১-১২ দিন সময় লাগত। এই প্রকল্পটি চালু হলে সমপরিমাণ তেল পরিবহনে সময় লাগত মাত্র দুই দিন, যা বছরে সরকারের ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করত।
তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার জানান, পাইপলাইন দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনে দক্ষ স্থানীয় কোম্পানি নেই এবং বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে এসপিএম প্রকল্পের সুফল মিলছে না। নির্মাণকাজের সময়ই সঠিক পরিকল্পনার অভাব ছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান জানান, এই সুযোগে জ্বালানি তেলের চোরাই সিন্ডিকেটের সদস্যরা বহির্নোঙর থেকে অপরিশোধিত ক্রুড, ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল গোপনে বিক্রি করছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকেও বছরের পর বছর চোরাই পথে সরকারি তেল লোপাট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
















