গহিন পাহাড় থেকে নারী–শিশুসহ ৭ জন ভুক্তভোগী উদ্ধার
টেকনাফের বাহারছড়ার গহিন পাহাড়ে বিশেষ অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ ৩ মানবপাচারকারীকে আটক এবং নারী–শিশুসহ ৭ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে তাদের পাহাড়ে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।
টেকনাফের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়ার গহিন পাহাড় থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ তিনজন শীর্ষ মানবপাচারকারীকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে পাহাড়ে বন্দি অবস্থায় থাকা নারী–শিশুসহ সাতজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়। রবিবার রাত ১০টার দিকে কোস্টগার্ড স্টেশন টেকনাফ ও বাহারছড়া আউটপোস্টের সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তাদের উদ্ধার করা হয়।
সোমবার সকালে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কর্নেল সিয়াম উল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আটক পাচারকারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সাগরপথে মালয়েশিয়া পাঠানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিয়ে এসে গহিন পাহাড়ে আটক করে রাখা হয়েছিল।
তথ্য পাওয়ার পর সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলা অভিযানে পাচারকারীদের গোপন আস্তানায় হানা দিয়ে সাতজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং তিনজন পাচারকারীকে আটক করা হয়। পাচারকারীদের কাছে থাকা একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্রও জব্দ করা হয়।
কোস্টগার্ড জানায়, সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে উন্নত জীবনের প্রলোভন, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং অল্প খরচে বিদেশ যাত্রার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলে পাচারের পরিকল্পনা করছিল। ভুক্তভোগীদের আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছে কোস্টগার্ড।
















