গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ চলাকালেই ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ও সীমিত মানবিক সহায়তা প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—এমন পরিস্থিতিতে কি দ্বিতীয় ধাপে যাওয়া সম্ভব?
হামাস জানিয়েছে, তারা শিগগিরই গাজায় থাকা শেষ ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ হস্তান্তর করবে এবং অস্ত্র ব্যবহারে “সাময়িক স্থগিত” রাখতে আলোচনায় আগ্রহী। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপে যাওয়া কঠিন হলেও এ মাসেই তা শুরু হতে পারে।
তবে বাস্তবে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপেই ইসরায়েল গাজায় অন্তত ৩৬০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে এবং ৫৯০ বারেরও বেশি হামলা চালিয়েছে। সহায়তা প্রবেশও চুক্তির তুলনায় বহুগুণ কম।
প্রথম ধাপ কীভাবে চলল?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনায় ইসরায়েলের যুদ্ধ থামানো, সেনা সরিয়ে নেওয়া, পর্যাপ্ত সহায়তা প্রবেশ এবং বন্দি বিনিময়ের কথা বলা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল বলছে, যুদ্ধ শেষ হয়নি এবং হামাসকে নিরস্ত্র করা হবে।
গাজার মানুষ প্রতিদিনই হামলার মুখে জীবনযাপন করছে এবং পরিস্থিতি অনিশ্চিত।
ইসরায়েল কি সেনা প্রত্যাহার করেছে?
চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল শুরুতে সেনা পিছু হটিয়ে “হলুদ রেখার” পেছনে অবস্থান নেয়। কিন্তু হামাসের অভিযোগ, প্রতিদিনই এই রেখা আরও ভেতরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং সীমারেখা অস্পষ্ট হওয়ায় সাধারণ মানুষ নিহত হচ্ছে।
মানবিক সহায়তার পরিস্থিতি
গাজায় বছরের শুরুতে ইসরায়েলি অবরোধের কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। যুদ্ধবিরতির পর কিছু সহায়তা ঢুকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৯,৩০০ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।
ইউএনআরডব্লিউএর কর্মকর্তা তামারা আলরিফাই বলেছেন, অধিকাংশ পণ্য বাণিজ্যিকভাবে ঢুকছে, মানবিক সহায়তা নয়—ফলে বড় বড় সংস্থাগুলোও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে পারছে না।
ইসরায়েল কি সত্যিই যুদ্ধবিরতি মানতে আগ্রহী?
নেতানিয়াহু আগে থেকেই বলে আসছেন, যুদ্ধ শেষ হয়নি। সমালোচকদের মতে, তার রাজনৈতিক সংকটই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছে। তবে এখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেই বেশি নির্ভরশীল, যা তাকে অভ্যন্তরীণ চাপ থেকে রক্ষা করতে পারে।
ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও বিশ্লেষকদের প্রশ্ন রয়েছে, কারণ তার প্রশাসন এখন একইসঙ্গে গাজা সংকট ও ইউক্রেন যুদ্ধ—দুই দিকেই সমঝোতার মধ্যস্থতায় যুক্ত।
দ্বিতীয় ধাপে কী আছে?
দ্বিতীয় ধাপে গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পরিচালন কাঠামো নির্ধারণের কথা। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল নয়—ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটরা অন্তর্বর্তী প্রশাসন চালাবেন। তাদের ওপর নজরদারি করবে একটি আন্তর্জাতিক “বোর্ড অব পিস” এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীল বাহিনী।
হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে, বিদেশি তত্ত্বাবধান মেনে না নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান কি সম্ভব?
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অস্থির এবং অভ্যন্তরীণ–আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ঝুঁকি সবকিছু অনিশ্চিত করে তুলেছে। ইসরায়েলের যেকোনো সময়ে গাজায় হামলা চালানো অব্যাহত থাকবে বলেও তারা মনে করেন।
সমালোচকরা বলছেন, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প—উভয়ের অনিশ্চিত রাজনৈতিক অবস্থান—গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যতকে আরও জটিল করে তুলেছে। কোনো সমাধান কীভাবে ও কখন হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
















