ব্রাজিলে সাম্প্রতিক সময়ে ফেমিসাইড ও নারী–নির্যাতন বৃদ্ধির ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার রিও দে জেনেইরো, সাও পাওলোসহ বিভিন্ন শহরের রাস্তায় নেমে আসে হাজারো নারী—এবং তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন বহু পুরুষও। সবার দাবি একটাই: নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ হোক, ঘৃণা ও বৈষম্য আর সহ্য নয়।
রিওর বুকে বিক্ষোভকারীরা কালো ক্রস স্থাপন করেন, কেউ কেউ বহন করেন “মাচিসমো হত্যা করে” লেখা স্টিকার। সাও পাওলোতে স্লোগান ওঠে—“আমাদের হত্যা করা বন্ধ করো”—অনেকে প্ল্যাকার্ডে লিখেন “ফেমিসাইড আর নয়”।
রিওর কোপাকাবানায় বিক্ষোভে অংশ নেন আলিন দে সুজা পেদ্রোত্তি, যার বোনকে গত ২৮ নভেম্বর এক পুরুষ সহকর্মী হত্যা করেছে। তিনি জানান, তাঁর বোনের কর্মক্ষেত্রে নারী নেতৃত্ব মেনে নিতে পারেনি অভিযুক্ত ব্যক্তি। আলিন বলেন, “আমি শোকে ভেঙে পড়েছি। কিন্তু লড়াই থামাব না। আইন পরিবর্তন ও নতুন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা চাই, যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।”
গত মাসে সাও পাওলো ও দক্ষিণের ফ্লোরিয়ানোপোলিসে ঘটে যাওয়া নারীর প্রতি নৃশংস সহিংসতার ঘটনাগুলোও বিক্ষোভে তীব্রভাবে নিন্দা জানানো হয়। সাও পাওলোতে ৩১ বছরের তায়নারা সুজা সান্তোসকে তাঁর সাবেক প্রেমিক গাড়িচাপা দিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা টেনে নিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর দুই পা কেটে ফেলতে হয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়।
অন্যদিকে ফ্লোরিয়ানোপোলিসে ২১ নভেম্বর ইংরেজি শিক্ষিকা কাতারিনা কাস্টেনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়, যখন তিনি সাঁতার শেখার পথে একটি সমুদ্রতটের পাশের ট্রেইল দিয়ে যাচ্ছিলেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইসাবেলা পন্তেস বলেন, এসব ঘটনা আর সহ্যসীমার মধ্যে নেই। “আমি নিজেও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আজ আমরা সবাই মিলে আমাদের কণ্ঠ জানান দিতে এসেছি।”
২০১৫ সালে ব্রাজিল নারীনির্যাতনজনিত হত্যাকে (ফেমিসাইড) বিশেষ অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু গবেষণা বলছে, গত বছর এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে ১,৪৯২ নারী নিহত হয়েছেন—যা আইন প্রণয়নের পর সর্বোচ্চ।
ব্রাজিলিয়ান ফোরাম অন পাবলিক সেফটির জুলিয়ানা মার্টিন্স জানান, শুধু সংখ্যা নয়, সহিংসতার মাত্রাও বেড়েছে। তিনি বলেন, নারীরা যখন অধিক অধিকার দাবি করে এবং সমাজে বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, তখনই প্রতিক্রিয়ায় সহিংসতা বাড়ে—যা নারীর অবস্থানকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা।
৭৯ বছরের স্থপতি লিজেতে দে পাউলা বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারোর সময়ে নারীর অধিকার রক্ষাকারী নীতিমালা দুর্বল হয়ে যায়। “নারীরা নতুন জায়গায় প্রবেশ করছে—কিন্তু বহু পুরুষ এটি মেনে নিতে পারছে না,” বলেন তিনি।
একই সঙ্গে সাও পাওলোতে ৪৫ বছর বয়সী তিন মেয়ের বাবা জোয়াও পেদ্রো করদাঁও বলেন, পরিবর্তন আনতে পুরুষদেরও এগিয়ে আসা জরুরি। “নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে কেবল রাস্তায় নয়, প্রতিদিনের জীবনে নারীবিদ্বেষকে প্রশ্ন করতে হবে,” তিনি বলেন।
















