বেনিনে একটি সেনাদল নিজেদের “পুনর্গঠন সামরিক কমিটি” পরিচয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালনকে অপসারণের ঘোষণা দিলেও সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং বেশির ভাগ সেনা বাহিনী সরকারের প্রতি অনুগত রয়েছে।
রবিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুশেগুন আদজাদি বাকারি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিদ্রোহী সেনারা কেবল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এবং এর সম্প্রচার কয়েক মিনিটের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “একদল সামান্য সংখ্যক সেনা এ প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তবে সেনাবাহিনীর বড় অংশ এখনও সরকারের পক্ষেই রয়েছে এবং আমরা পুরো পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।”
এর আগে লেফটেন্যান্ট–কর্নেল পাসকাল টিগরির নেতৃত্বাধীন একটি দল টেলিভিশনে এসে দাবি করে, তারা প্রেসিডেন্ট তালন ও সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপসারণ করেছে। একই সঙ্গে তারা সীমান্ত বন্ধ ঘোষণা ও সব রাজনৈতিক দল স্থগিত করার কথাও জানায়।
তবে প্রেসিডেন্টের দপ্তর দ্রুতই জানায়, তালন নিরাপদ আছেন এবং সেনাবাহিনী ক্রমশ পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়, “বিদ্রোহী দল শুধু টেলিভিশন স্টেশনটি দখল করেছিল। নিয়মিত বাহিনী নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে। দেশ ও শহর সম্পূর্ণ নিরাপদ।”
এই সময় ফ্রান্সের দূতাবাস জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দখলের মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের নিকটবর্তী ক্যাম্প গেজো এলাকায় গুলির শব্দ শোনা গেছে।
২০১৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট তালন আগামী এপ্রিলেই পদ ছাড়ার কথা।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বেনিনে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক সংস্থা ইকোওয়াসের সাবেক কর্মকর্তা আদামা গায়ে আল জাজিরাকে জানান, বহু বিরোধী নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বনি ইয়াইসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও তালন রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর মতে, অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা “কাউকে বিস্মিত করেনি”।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে পরপর সেনা অভ্যুত্থান ঘটছে। গত মাসেই গিনি-বিসাউতে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। ২০২৩ সালে গ্যাবন, নাইজার ও আরও কয়েকটি দেশে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠা হয়। বুরকিনা ফাসো ও মালিতেও একই সময়ে সেনা অভ্যুত্থান ঘটে।
বেনিনের চলমান পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে বলা হলেও ঘটনাটি দেশটির স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
















