ঢাকা, ৬ অক্টোবর ২০২৫ — দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে এক গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে—দক্ষ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) ঘাটতি। এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে ফিন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের ১৫ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন,
“মানসম্পন্ন এমডি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শুধু তাই নয়, করপোরেট ও কনজিউমার ব্যাংকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতেও দক্ষ নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষিত ও প্রযুক্তিসচেতন পেশাজীবীদের অভাব ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যতের জন্য বড় রকমের উদ্বেগ তৈরি করছে।
“যাদের প্রপার ট্রেইনিং ও বাস্তব জ্ঞান থাকার কথা, এমন অনেকেই এখন দায়িত্বে আছেন না—এটা ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি ব্যর্থতা,”—যোগ করেন গভর্নর।
ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে বিদেশি নির্ভরতা এখনও কাটেনি
ডিজিটাল ব্যাংকিং প্রসঙ্গে গভর্নর জানান, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পথে হাঁটলেও অধিকাংশ ব্যাংক এখনও ভারতীয় কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল।
দেশে এখনো নিজস্ব সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি—এটা একটি কাঠামোগত দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
সতর্কতা অর্থনীতিবিদের: প্রস্তুতির ঘাটতি বিপজ্জনক হতে পারে
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক গভর্নর ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সতর্ক করে বলেন,
“দক্ষতা শুধু প্রশিক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়—সঠিক মানসিকতা ও প্রস্তুতি না থাকলে প্রশিক্ষিত জনবলও বড় ক্ষতি করতে পারে।”
তিনি বলেন, আগামী ৪-৫ মাস দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য সংকটময় সময় হতে পারে, তাই এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
মানবসম্পদ ও সুশাসন উন্নয়নের তাগিদ

অনুষ্ঠানে বক্তারা ব্যাংকিং খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, প্রযুক্তি-নির্ভর কার্যক্রম চালু করা এবং প্রতিষ্ঠানে সুশাসন জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
দক্ষ নেতৃত্বের অভাব, প্রযুক্তিতে বিদেশি নির্ভরতা এবং সুশাসনের ঘাটতি—এই তিনটি চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। সমাধান না হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
















