ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য—‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার থাকার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত; গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা।
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ থাকার সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত অভিমত হিসেবে দেখছেন এস. জয়শঙ্কর। হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত যে সরকারই আসুক, তারা সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নেবে। দুই দেশের টানাপোড়েনের মধ্যেও ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী নয়া দিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর বলেছেন, রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার থাকা-না-থাকার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত বিষয়। তিনি যে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন, সেই প্রেক্ষাপটই তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হিন্দুস্তান টাইমস লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির প্রধান নির্বাহী রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে আলাপচারিতায় শেখ হাসিনার ভারতে দীর্ঘদিন থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর বলেন, “তিনি একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন… তাকে ঘিরে যা ঘটছে, তাতে সেই পরিস্থিতির স্পষ্ট প্রভাব আছে। তবে সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।”
গত বছরের ৫ অগাস্ট অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই ভারতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে অনুপস্থিতিতে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে’ মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে ফেরত চেয়ে একাধিকবার ভারতকে চিঠি দিয়েছে ঢাকা। তবে দিল্লি এখনো সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের ওপর জোর দিল ভারত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে অস্থিরতার প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেন, অতীতের নির্বাচন নিয়ে যেসব অসন্তোষ ছিল, চলমান পরিস্থিতিতে মূল কাজ হওয়া উচিত একটি ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মঙ্গল চাই। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ইচ্ছা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জানতে পারাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
জয়শঙ্কর আরও বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যে-ই ক্ষমতায় আসুক, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা “ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ব দৃষ্টিভঙ্গি” নেবে বলেই তার দৃঢ় বিশ্বাস।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও পাল্টাপাল্টি বার্তা
গত এক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক নানা পর্যায়ে টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে—
- শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক পত্র
- ভারতীয় গণমাধ্যমের সংবাদ নিয়ে ঢাকার অভিযোগ
- সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ইস্যুতে নয়াদিল্লির উদ্বেগ
- সাম্প্রতিক সীমান্ত ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা
- দিল্লিতে সাক্ষাৎকার দেওয়া থেকে শেখ হাসিনাকে বিরত রাখার আহ্বানে ভারতীয় কূটনীতিককে তলব
এসব উত্তেজনার মাঝেও জয়শঙ্কর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নেবে।














