দুই বগির মাঝে ঝুলে থাকা থেকে ট্রেনের ছাদে ওঠা; বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ, স্টেশন খালি করে উদ্ধার—সোমবার থেকে স্বাভাবিক চলাচল
মেট্রোরেলের ছাদে উঠা কিশোর ইয়াসিনকে উদ্ধার করতে সচিবালয় স্টেশনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ট্রেন থামাতে হয়। ঘটনা তদন্তে ডিএমটিসিএল নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছে। রাতভর বন্ধ ছিল মেট্রোরেল।
রাজধানীর মেট্রোরেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ওঠা কিশোর ইয়াসিনকে ঘিরে রবিবার রাতে ঘটে বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক ঘটনা। আগারগাঁও থেকে টিকিট কেটে ট্রেনে উঠলেও সচিবালয় স্টেশনে দেখা যায়—সে দুই বগির মাঝের সংযোগস্থলে হুক ধরে ঝুলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সে উঠে পড়ে ট্রেনের ছাদে, যা মেট্রোরেল চালুর পর প্রথম এমন ঘটনা।
ঘটনার পরপরই সচিবালয় স্টেশনে মেট্রোরেলের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ট্রেন থামিয়ে মই ব্যবহার করে এমআরটি পুলিশ কিশোরটিকে উদ্ধার করে। পরে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। একই সময়ে এক কিশোরকে রেললাইনে দৌড়াতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা ধারণা করলেও তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় রবিবার রাতের বাকি সময়ে মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। কিশোর ইয়াসিন জানান, “৫০ টাকা দিয়া টিকেট কাইটা মেট্রোর ছাদে উঠছি।” তার বয়স আনুমানিক ১৩–১৪ বছর। ধারণা করা হচ্ছে, সে কোনো শিশুসদনে ছিল এবং মানসিকভাবে অস্থির হতে পারে।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ছাদে ওঠা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ট্রেনের ওপর থাকা উচ্চভোল্টেজ ক্যাটেনারি তারের কাছাকাছি গেলে মুহূর্তেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কর্মকর্তারা বলেন, মেট্রোরেলের ইতিহাসে প্রথমবার এমন ঘটনা ঘটেছে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনার পর পুরো লাইন ও ট্রেনগুলো পরীক্ষা করার প্রয়োজন দেখা দেয়। ডিএমটিসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ জানান, “সতর্কতার অংশ হিসেবে রাতে মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার থেকে স্বাভাবিক সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলবে। কীভাবে কিশোরটি ছাদে উঠল তা তদন্ত করা হচ্ছে।”
ডিএমটিসিএলের একজন কর্মকর্তা বলেন, খুব সামান্য ভুলেও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ঘটনাটি ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।
এ ঘটনা ঢাকার অন্যতম নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন ও সতর্কবার্তা তৈরি করেছে।
















