ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মারকোস জুনিয়রের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। রবিবার লুনেতা ন্যাশনাল পার্ক থেকে শুরু হওয়া এই র্যালি প্রেসিডেন্ট ভবনের দিকে অগ্রসর হলে শহরের বিভিন্ন সড়কে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বিক্ষোভটির আয়োজন করে কিলুসাং বায়ান কনত্রা–কুরাকোট (KBKK) বা পিপলস মুভমেন্ট অ্যাগেইনস্ট করাপশন। আয়োজকদের দাবি, বিক্ষোভে ২০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে। কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট মার্কোস ও সহ-রাষ্ট্রপতি সারা দোতার্তের মুখোশ পরে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত কুমির’ ইফিজি তৈরি করে ব্যঙ্গ করেন, অন্যদের হাতে দেখা যায় “মারকোস পদত্যাগ করুন” লেখা প্ল্যাকার্ড।
বিক্ষোভের কেন্দ্রীয় ইস্যু হচ্ছে “ট্রিলিয়ন-পেসো দুর্নীতি কেলেঙ্কারি”, যেখানে অভিযোগ উঠেছে—বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো প্রকল্পে বিলিয়ন পেসো ঘুষ হিসেবে ভাগাভাগি করেছেন ক্ষমতাসীন রাজনীতিকরা। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই কখনো বাস্তবায়িত হয়নি বা অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল। সাম্প্রতিক দুটি শক্তিশালী টাইফুনে ২৫০ জনের বেশি মৃত্যুর পর জনরোষ আরও বেড়েছে।
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দুই মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এ মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইনপ্রণেতা জালদি কো দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট মার্কোস তাকে “সন্দেহজনক প্রকল্পের” বাজেটে আরও ১.৭ বিলিয়ন ডলার যোগ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১ বিলিয়ন পেসোর নগদ অর্থ স্যুটকেসে করে মার্কোস পরিবারের বাসভবনে পৌঁছে দেন। তবে প্রেসিডেন্ট মার্কোস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং কোকে দেশে ফিরে প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২১ বছর বয়সী ছাত্র ম্যাট ভোভি ভিলানুয়েভা বলেন, “আমাদের বোকা ভাবা বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত ন্যায়বিচার চাইলে মারকোস ও সারা দোতার্তে উভয়েরই পদত্যাগ করা উচিত।” সেপ্টেম্বরের আগের এক বিক্ষোভে পুলিশের হাতে আটক হয়ে পাঁচ দিন কারাবন্দী ছিলেন তিনি।
এদিকে ক্যাথলিক চার্চ সমর্থিত মূলধারার বিরোধীরা আলাদা একটি “ট্রিলিয়ন পেসো মার্চ” আয়োজন করেছে, যেখানে তারা কেবল সহ-রাষ্ট্রপতি দোতার্তের পদত্যাগ দাবি করছে এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আরও প্রমাণ আসার অপেক্ষায় রয়েছে।
বিক্ষোভের কারণে মালাকানাং প্রেসিডেন্ট ভবনের দিকে সব রাস্তা কাঁটাতারের বেড়া ও কনটেইনার দিয়ে বন্ধ করে দেয় পুলিশ। প্রায় ১২ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রেসিডেন্ট ভবনের এক ব্লক দূরে গিয়ে থেমে যাওয়া বিক্ষোভকারীরা সেখানে ইফিজি ভেঙে ফেলে এবং “সব দুর্নীতিবাজকে কারাগারে নাও” স্লোগান দিতে থাকে।
সংসদীয় শুনানিতে ইতোমধ্যে জানা গেছে, ২০২৩ সাল থেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার দুর্নীতি হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মার্টিন রোমুয়ালদেজ, যিনি ইতোমধ্যে স্পিকার পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজেটে অনিয়ম থেকে শুরু করে কথিত ভুতুড়ে প্রকল্প—সবকিছুর দায় এড়াতে পারেন না প্রেসিডেন্ট নিজেই। ফিলিপাইনের ইউনিভার্সিটি অব দ্য ফিলিপাইনের অধ্যাপক সল ইগলেসিয়াস বলেন, “মারকোস প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্তক্ষরণ করছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি, তবু বলা কঠিন যে প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত।”
















