বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে তথাকথিত ‘অবৈধ রুট’ দিয়ে যাতায়াতের অভিযোগে ‘এনভি সানশাইন’ নামে একটি বিশালাকার এলপিজি গ্যাসবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’ ও ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’-এর বরাতে প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
ইরানের আইআরজিসির পক্ষ থেকে দেওয়া এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌসীমার নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করার চেষ্টা করায় এনভি সানশাইন নামের জাহাজটিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়। হামলায় জাহাজটির প্রধান ইঞ্জিনকক্ষ এবং অভ্যন্তরীণ চালনাব্যবস্থায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই হরমুজ প্রণালি পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে আইআরজিসির নৌবাহিনী। ফলে এই অঞ্চল দিয়ে শত্রুভাবাপন্ন বা আগ্রাসী সামরিক বাহিনীর উপস্থিতিকে কোনোভাবেই অনুমোদন দেওয়া হবে না। প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও স্বাভাবিক নৌচলাচল ব্যাহত করার মতো যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক বাহিনী কঠোর ও উপযুক্ত জবাব দেবে।
এদিকে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সমুদ্র নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও) এক পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল জাজিরার প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও পরবর্তীতে তা নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। তবে আইআরজিসির দেওয়া এনভি সানশাইন জাহাজে হামলার খবর এবং ইউকেএমটিও-এর দেওয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা একই কি না, তা স্বাধীন কোনো সূত্রে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক নৌপথে নতুন করে হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।























