ঘূর্ণিঝড়-বিধ্বস্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আকাশে যেন থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে সপ্তাহজুড়ে হওয়া অঝোর বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৩-এ, আর নিখোঁজ রয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ। ভাঙাচোরা গ্রামের পথে ভেসে বেড়াচ্ছে ধ্বংসস্তূপ আর মানুষের কান্না।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, সুমাত্রার পশ্চিমাঞ্চলীয় আগাম জেলায় নতুন করে উদ্ধার করা মৃতদেহগুলো যুক্ত হওয়ায় সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এখনও দূরবর্তী বহু অঞ্চলে পৌঁছাতে পারেনি উদ্ধারকর্মীরা—পাহাড়ধস, ভাঙা সেতু, ডুবে যাওয়া রাস্তাঘাট সব পথই যেন করে তুলেছে অবরুদ্ধ।
সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো বলেন, “মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ, কিছু জায়গায় পৌঁছানোর পথ এখনো বন্ধ।”
পশ্চিম সুমাত্রার স্থানীয় দুর্যোগ দপ্তর শুক্রবার জানিয়েছিল, সেখানে ৬১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত এবং অন্তত ৯০ জন নিখোঁজ। এখন পুরো অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি।
উত্তর সুমাত্রায় ১১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। আছেহ প্রদেশেও প্রাণহানি কম নয়—মৃত কমপক্ষে ৩৫ জন।
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড—মালাক্কা প্রণালীতে বিরল এক ট্রপিক্যাল ঝড় সৃষ্টি হওয়ার পর টানা বৃষ্টিতে তিন দেশ মিলিয়ে প্রায় ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। থাইল্যান্ডেই প্রাণহানি ১৪৫ ছাড়িয়েছে।
বৃষ্টি থেমে গেলেও ইন্দোনেশিয়ার বহু এলাকায় এখনো চলছে নিখোঁজদের সন্ধান। নদীর উজান থেকে নেমে আসা বন্যার স্রোত উত্তর সুমাত্রার বহু গ্রামকে মুছে দিয়েছে মানচিত্রের কোল থেকে। পাহাড়ি ঢল ঘর-বাড়ি, দোকানপাট, স্কুল—সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এক মুহূর্তে।
ধ্বংসস্তূপে মোড়া বহু অঞ্চল এখনো বিচ্ছিন্ন। উদ্ধারযান যেতে পারছে না ভাঙা সেতু ও কাদা-পানিতে ডুবে থাকা রাস্তায়। কোথাও নেই যোগাযোগ—নেই সাহায্য পৌঁছানোর নিশ্চয়তা।
তবুও আকাশ চিরে উড়ে যাচ্ছে ত্রাণবাহী বিমান, চেষ্টা করছে পৌঁছাতে সেন্ট্রাল তাপানুলি ও আশপাশের বিধ্বস্ত এলাকায়।
প্রকৃতির এই নির্মম আঘাতে সুমাত্রার রাত এখন আরও অন্ধকার, আর মানুষের বুকভরা আর্তনাদ—যেন হারিয়ে যাওয়া নদীর জলরাশির মতোই অশান্ত, অবরুদ্ধ, অসীম।
















