যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধানের সঙ্গে তাদের বৈঠক ছিল গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন প্রযুক্তি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান দারিও আমোদেই সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের সঙ্গে আলোচনা করেন। যদিও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
এই বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি নতুন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক সংস্করণ উন্মুক্ত করেছে, যা সাইবার নিরাপত্তা ও কম্পিউটার ব্যবস্থায় ত্রুটি খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে মানুষের চেয়েও দক্ষ বলে দাবি করা হয়েছে।
এই প্রযুক্তি পুরোনো সফটওয়্যারের দুর্বলতা শনাক্ত করতে পারে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেগুলো ব্যবহারের উপায়ও বের করতে সক্ষম—যা একদিকে নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হলেও অন্যদিকে অপব্যবহারের ঝুঁকিও তৈরি করছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বৈঠকে প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তখন তাদের প্রযুক্তিকে সরকারি ব্যবহারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত ছিল প্রতিশোধমূলক, কারণ তারা তাদের প্রযুক্তি অবাধভাবে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। বিশেষ করে গণ নজরদারি বা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
আদালতের কিছু পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির যুক্তি আংশিকভাবে সমর্থন পেলেও, আপিল আদালত সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আবেদন নাকচ করেছে।
এদিকে পূর্বের নির্দেশনা সত্ত্বেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এখনো এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, তেমনি নিরাপত্তা ও নীতিগত প্রশ্নও সামনে এনে দিচ্ছে—যা এখন নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
















