যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির আকাশে আবারও জমছে উত্তাল মেঘ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর ধারণামতে অটোপেন ব্যবহার করে স্বাক্ষর করা জো বাইডেনের সব নির্বাহী আদেশ তিনি বাতিল করবেন। এই দাবি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক, নতুন শোরগোল—যেন হোয়াইট হাউসের করিডরে আবারও প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ক্ষমতার নোনাধরা পুরোনো লড়াই।
শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, বাইডেনের প্রায় পুরো মেয়াদজুড়ে জারি হওয়া নির্বাহী আদেশের ৯২ শতাংশই নাকি অটোপেন দ্বারা স্বাক্ষরিত—যা তাঁর চোখে ‘অবৈধ’। অটোপেন এমন একটি যন্ত্র, যা নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্বাক্ষর অনুকরণ করতে পারে।
ট্রাম্প অভিযোগ তোলেন, বাইডেন বয়স ও স্মৃতিশক্তি দুর্বলতার কারণে নিজের কাজ নিজে করতে পারেননি। এমনকি হুমকি দেন, বাইডেন যদি দাবি করেন তিনি নিজেই এসব আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের মামলা হতে পারে।
তবে এই যন্ত্র ব্যবহারের ইতিহাস আমেরিকায় নতুন নয়—থমাস জেফারসনের যুগ থেকে শুরু হওয়া এই প্রথা বহু প্রশাসনেই ব্যবহার হয়েছে। ট্রাম্পও নিজে আগের মেয়াদে অটোপেন ব্যবহার করেছিলেন।
তবুও ডেমোক্র্যাট নেতাদের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের তীব্র ক্ষোভ যেন বিষয়টিকে নতুন করে তীব্র করে তুলেছে। বাইডেনের বয়স নিয়ে কটাক্ষ, হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে অটোপেনের ছবি দিয়ে ‘ওয়াক অফ ফেম’ সাজানো—সবই যেন রাজনৈতিক বিদ্রুপের ধারাবাহিকতা।
বাইডেন অবশ্য বহু আগেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। জুনের এক বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, “প্রত্যেক সিদ্ধান্ত আমি নিজের দায়িত্বেই নিয়েছি—ক্ষমতার দিনগুলোতে কোনো আদেশই আমার অগোচরে হয়নি।”
যদিও ট্রাম্পের অভিযোগ মিলছে না আইনি বাস্তবতার সঙ্গে। মার্কিন আইনের দৃষ্টিতে প্রেসিডেন্টের পক্ষে কোনো আইন বা ক্ষমা আদেশ স্বাক্ষরের জন্য ব্যক্তিগতভাবে কলম ধরাটা বাধ্যতামূলক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইনি পরামর্শক দপ্তরের ২০০৫ সালের একটি নথিতে স্পষ্ট বলা আছে—প্রেসিডেন্টের অনুমোদন থাকলেই অটোপেনের মাধ্যমে স্বাক্ষর বৈধ ধরা হবে।
তবুও রাজনৈতিক হিসাবের অদৃশ্য খাতায় এই অভিযোগগুলো আবারও নতুন ইন্ধন জুগিয়েছে। ট্রাম্প এর আগেও বাইডেনের দেওয়া ক্ষমার আদেশ ও নীতি বাতিলের চেষ্টা করেছিলেন অটোপেন যুক্তি দেখিয়ে, যদিও সেগুলো আইনি দিক থেকে কোনো ভিত্তি পায়নি।
বাইডেনের বয়স ও স্বাস্থ্যের প্রশ্ন নিয়েও ছিল নানা বিতর্ক। ২০২৪ সালের বিতর্কমঞ্চে তাঁর দুর্বল পারফরম্যান্স যেন সেই প্রশ্নকে আরও উসকে দেয়। পরবর্তীতে ডেমোক্র্যাট নেতাদের চাপেই তিনি নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ান। বর্তমানে তিনি ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অদ্ভুত ব্যাপার—ট্রাম্পও এখন একই বয়সের পথে, আর তাকেও ঘিরে শুরু হয়েছে শারীরিক ক্লান্তি ও মানসিক তেজ কমে যাওয়ার আলোচনা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে তাঁর ‘অল্পঘুম’ ও ‘ক্লান্ত দিনগুলো’ নিয়ে কথা বলা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান, ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ দেন কটাক্ষে।
রাজনীতির এই রুদ্ধশ্বাস নাটক যেন থেমে থাকা কোনো নদী নয়—বরং প্রবল স্রোতের মতো ভেসে যাচ্ছে আমেরিকার জনমত, আইন আর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ট্রাম্পের অভিযোগ কতটা সত্য আর কতটা রাজনৈতিক অস্ত্র—তার উত্তর হয়তো এখনও সময়ের কাছে রয়ে গেল।
















