ক্যারিবীয় দেশ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে একটি কবরস্থান থেকে ৫৬টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর বেশিরভাগই শিশুদের বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার দেশটির পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, কুমুটো শহরের একটি কবরস্থান থেকে ৫০টি শিশুর মরদেহ, চারজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুইজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, এটি দাবিহীন মরদেহ অবৈধভাবে ফেলে দেওয়ার একটি ঘটনা হতে পারে। উদ্ধার হওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অন্তত একজন নারী ও একজন পুরুষের দেহে ময়নাতদন্তের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাদের শরীরে পরিচয় ট্যাগও ছিল, যা সাধারণত মর্গে ব্যবহৃত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি ঘিরে ফেলে ফরেনসিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বিশেষজ্ঞ দল, এমনকি হত্যাকাণ্ড তদন্তে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদেরও সেখানে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার অ্যালিস্টার গেভারো বলেন, “এই ঘটনার প্রকৃতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি পরিবার ও পুরো দেশের মানুষের ওপর মানসিক প্রভাব ফেলবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মরদেহ যথাযথ সম্মান ও আইন মেনে পরিচালনা করা উচিত এবং এ বিষয়ে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানবদেহের অবৈধ নিষ্পত্তি ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘবদ্ধ অপরাধ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, যা পরবর্তীতে কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, এই জরুরি অবস্থার আওতায় শতাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে এবং অপরাধ দমনে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অব্যাহত থাকবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে দেশটিতে হত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল, যদিও সর্বশেষ বছরে তা কিছুটা কমেছে বলে জানানো হয়েছে।
















