ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তিকে বিদেশি অধিগ্রহণ হিসেবে প্রচার করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বাংলাদেশের মালিকানাতেই থেকে যাবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় এপিএম টার্মিনালসের চুক্তিকে বিদেশি বিক্রয় নয়, বরং পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আধুনিকায়নের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২৫:
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এটি কোনো জাতীয় সম্পদ বিক্রির চুক্তি নয়, বরং বন্দরের পেশাদার আধুনিকায়নের একটি কৌশলগত উদ্যোগ।
চুক্তি অনুযায়ী, লালদিয়া টার্মিনালের পুরো অর্থায়ন করবে বিদেশি অপারেটর। প্রায় তিন বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলবে এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালনার পর টার্মিনালটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অর্থাৎ মালিকানা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের হাতেই থাকবে।
চট্টগ্রাম বন্দর দীর্ঘদিন ধরে দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ কনটেইনারভিত্তিক বাণিজ্য এই বন্দরের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বন্দরের কার্যকারিতা বরাবরই পিছিয়ে রয়েছে।বিশ্বব্যাংকের কনটেইনার পোর্ট পারফরম্যান্স ইনডেক্সে বিশ্বের ৪০৫টি বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রামের অবস্থান ৩৩৪তম। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশের জন্য এই অবস্থান অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী,
বন্দরের অদক্ষতার কারণে বিলম্ব, জাহাজজট ও পণ্য পরিবহনে ধীরগতির ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে একটি কনটেইনার বন্দরের ভেতরে গড়ে ১০ থেকে ১২ দিন এবং ব্যস্ত মৌসুমে ১৪ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত আটকে থাকে। যেখানে বিশ্ব গড় সময় মাত্র ৩ থেকে ৫ দিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক সরবরাহ ব্যবস্থায় কয়েক দিনের বিলম্বই বড় বাজার হারানোর ঝুঁকি তৈরি করে। ইউরোপীয় অনেক ক্রেতা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ থেকে অর্ডার সরিয়ে ভিয়েতনামের মতো দেশে নিয়ে যাচ্ছেন।
ভিয়েতনামের Cai Mep বন্দরের উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন,
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞ অপারেটরদের যুক্ত করার পর এক দশকের মধ্যেই সেই বন্দর বিশ্বের সবচেয়ে দক্ষ বন্দরগুলোর একটি হয়ে ওঠে। বর্তমানে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি নৌরুট পরিচালনা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশাদার অপারেটররা দায়িত্ব পেলে বন্দরের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ে, দুর্নীতি কমে এবং তথ্যভিত্তিক আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হয়—যার সুফল সরাসরি দেশের রপ্তানি ও অর্থনীতিতে পড়বে।















