ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা আলোচিত তিন মামলার রায় ঘোষণা করবে বিশেষ জজ আদালত
ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা তিন দুর্নীতি মামলার রায় আজ ঘোষণা হবে।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ৪৭ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি দুর্নীতি মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫–এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন গত রোববার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। আদালত সূত্র জানায়, বেলা ১১টার দিকে মামলাগুলোর রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি জমি নিজেদের ও স্বজনদের নামে অবৈধভাবে বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে জালিয়াতি ও গুরুতর অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এই তিন মামলায় শুরু থেকেই শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রাজউক-এর সাবেক সদস্য খুরশীদ আলম বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। শেখ হাসিনা তিনটি মামলারই আসামি হলেও জয় ও পুতুল পৃথক দুটি মামলার আসামি।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহম্মেদ সালাম জানিয়েছেন, সাক্ষ্য–প্রমাণে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, সব আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রত্যাশা করছে দুদক।
আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রথম মামলাটি গত ১৪ জানুয়ারি দায়ের করা হয়, যেখানে শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে পূর্বাচলে ১০ কাঠা সরকারি প্লট আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। একই দিনে দ্বিতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৫ জনকে আসামি করা হয়। এরপর ১২ জানুয়ারি তৃতীয় মামলায় শেখ হাসিনা ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
তিনটি মামলারই অভিযোগ গঠন করা হয় গত ৩১ জুলাই। এরপর টানা সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে। এই রায় ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
















