মিয়ানমারের আরাকান আর্মির বেড়ে ওঠা মাদক সাম্রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইয়াবা-মেথ পাচার, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবহার এবং নতুন রুট খুলে বিপদ বাড়ছে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা।
ইয়াবা–মেথের নেটওয়ার্ক থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ব্যবহারের অভিযোগ—বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা
ঢাকা,২৫ নভেম্বর ২০২৫:
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির প্রভাব বিস্তার এখন বাংলাদেশের জন্য নতুন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী সামরিক ব্যয় মেটাতে পুরোপুরি ঝুঁকেছে মাদক বাণিজ্যের ওপর, আর তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে নাফ নদী, টেকনাফের পাহাড়ি রুট এবং সেন্টমার্টিন–চট্টগ্রাম উপকূল—এসব রুট এখন মাদক পাচারের কেন্দ্রবিন্দুতে। শুধু ইয়াবা নয়, এবার মিয়ানমার থেকে প্রবেশ করছে উচ্চমূল্যের ‘ক্রিস্টাল মেথ’ বা আইস, যা যুবসমাজকে আরও বড় ঝুঁকিতে ফেলছে।
বিজিবির তথ্য বলছে—২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩ কোটির বেশি ইয়াবা এবং প্রায় ১৫০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ উদ্ধার করা হয়েছে, যার মূল্য ১৮০০ কোটি টাকারও বেশি।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন—এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অপরাধ বাড়বে এবং সীমান্তে সন্ত্রাস ও অস্ত্রশক্তি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে ‘মাদক ট্রানজিট নেশন’ হিসেবে দেখা হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ—সীমান্তে প্রযুক্তিগত নজরদারি বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি এবং দেশীয় মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর জিরো টলারেন্স।
















