গবেষকদের মতে, মধুপুর ফল্টে ৪০০ বছর ধরে জমা চাপ যেকোনো সময় ভয়াবহ ভূমিকম্প ঘটাতে পারে। রিখটার স্কেলে কম্পন ৮ মাত্রা পর্যন্ত হতে পারে। ঝুঁকিতে টাঙ্গাইল, নরসিংদীসহ ঢাকার আশপাশের অঞ্চল। জেনে নিন সর্বশেষ বিশ্লেষণ।
মধুপুর ফল্টে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের সম্ভাবনা; ঢাকা মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে—বিশেষজ্ঞদের নতুন সতর্কবার্তা
২৪ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের নিচে ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা—এই তিন টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফলে দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্পঝুঁকিতে রয়েছে। এই প্লেটচ্যুতি থেকে ডাউকি, মধুপুর এবং সিলেট লাইনমেন্টসহ কয়েকটি সক্রিয় ফল্ট লাইন তৈরি হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হলো মধুপুর ফল্ট, যেখানে প্রায় ৪০০ বছর ধরে শক্তি জমে আছে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই চাপ হঠাৎ মুক্তি পেলে ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৮ পর্যন্ত উঠতে পারে। রাজধানী ঢাকা মধুপুর ফল্টের মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ঢাকার ৪০ থেকে ৬৫ শতাংশ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
২০০৭ সালে মধুপুর ফল্ট পর্যবেক্ষণের জন্য একটি সিসমোগ্রাফ স্থাপন করা হলেও এখন সেই যন্ত্রের কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে সঠিক ভূমিকম্প-সংক্রান্ত ডাটা পাওয়া যাচ্ছে না। নরসিংদী কেন্দ্রিক সাম্প্রতিক কম্পনের পর মধুপুরসহ আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ বেড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টাঙ্গাইলকে ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা দেওয়া হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন জানান, সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঝুঁকি কমাতে পরিকল্পিত নির্মাণ ও সঠিক তদারকি জরুরি।
এমবিএসটিইউ-এর পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে মধুপুর অঞ্চলের ভূমিকম্পঝুঁকি কমানো সম্ভব। তিনি জানান, নতুন পর্যবেক্ষণ যন্ত্রপাতি কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
২০১২ সালের এক ভূমিকম্পে মধুপুরের অরণখোলা ইউনিয়নের বোকারবাইদ এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটারজুড়ে বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছিল, যার গভীরতা ছিল ২৫–২৬ ফুট।
















