সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন—কাঠামো দুর্বল হলে এই ব্যবস্থাও কর্তৃত্ববাদে রূপ নিতে পারে। আসছে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারও কি ফ্যাসিবাদে পরিণত হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
ঢাকা, ২২ নভেম্বর ২০২৫ — দীর্ঘ আন্দোলন, তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন এবং এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আবার ফিরেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। তবে প্রশ্ন এখন– গণতন্ত্র রক্ষার জন্য তৈরি এই মডেল কি নিজেই কোনো দিন ফ্যাসিবাদে পরিণত হতে পারে?
২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পর থেকেই রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী জোটের আন্দোলনে। দলীয় সরকারের অধীনে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন বিতর্ক ও ভোটাধিকার সংকটে ডুবে যায়। শেষ পর্যন্ত ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে, পতন ঘটে দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সরকারের।
এরপর সর্বোচ্চ আদালত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায়কে “অবৈধ” ঘোষণা করে। ফলে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তবে আগামীর নির্বাচন—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ—হবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। পূর্ণাঙ্গ তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো কার্যকর হবে পরবর্তী নির্বাচন থেকে।
কিন্তু এই প্রত্যাবর্তন কি সম্পূর্ণ নিরাপদ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান সতর্ক করে বলেন—কাঠামো শক্তিশালী না হলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাও কর্তৃত্ববাদ বা ফ্যাসিবাদে রূপ নিতে পারে। তার ভাষায়, “বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চাইলে এমন স্বাস্থ্যবান মডেল গড়তে হবে, যা কখনো নিজেও অপব্যবহারের হাতিয়ারে পরিণত হবে না।”
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল মনে করেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনই জনগণের ভোটাধিকার সবচেয়ে স্বচ্ছভাবে নিশ্চিত করেছে। তাই এই ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক মৌলিক কাঠামো হিসেবে দেখার প্রয়োজনীয়তাও তিনি তুলে ধরছেন।
যদিও দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় একমত হয়েছে, এর রূপরেখা, নির্বাচন পরিচালনা এবং ক্ষমতার সীমা নিয়ে এখনও রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদের খসড়ায় রয়েছে কয়েকটি দলের “নোট অব ডিসেন্ট”—যা নতুন বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মোড়ে দাঁড়িয়ে। প্রশ্ন একটাই—তত্ত্বাবধায়ক কাঠামো কি পারে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করে দিতে? নাকি দুর্বল ভিত্তি হলে আবার খুলে দিতে পারে সেই অন্ধকার দরজা?
















