সমবায় সমিতিতে রাখা আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে টানা সপ্তম দিনের মতো মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে ২৩টি দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। আজ দুপুরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে জমা অর্থ ফেরতের দাবিতে আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির করে দিয়েছেন। ষষ্ঠ দিনের মতো আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কর্মসূচি শুরু হয়, যা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা বলেছেন, টাকা ফেরতের বিষয়ে নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঘেরাওয়ের পাশাপাশি মশালমিছিল হবে। এরপর রোববার থেকে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও তাঁরা জানান।
‘মাদারগঞ্জে বিভিন্ন সমবায় সমিতিতে আমানতকৃত অর্থ উদ্ধার—সহায়ক কমিটি’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এতে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও যোগ দিচ্ছেন। গত এক বছর ধরে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, মশালমিছিল, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ এবং একাধিকবার উপজেলা পরিষদ ঘেরাউসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও কেউই এখনো টাকা ফেরত পাননি।
আজও সকাল সাড়ে ১০টা থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার ক্ষতিগ্রস্তরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। পরে তাঁরা প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে কার্যালয় ঘেরাও করেন। এতে উপজেলা পরিষদসহ ২৩টি দপ্তরের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উদ্ধার কমিটির সদস্য মাহবুব আলম বলেন, ‘প্রশাসন আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। না হলে সাত দিন ধরে সব বন্ধ থাকা সত্ত্বেও তারা কোনো সাড়া দিচ্ছে না। এবার আমরাও প্রশাসনের ধৈর্যের পরীক্ষা নেব। টাকার নিশ্চয়তা ছাড়া কেউ ঘরে ফিরবে না—এ প্রতিজ্ঞা আন্দোলনকারীরা করেছেন। আন্দোলন চলবে।’
জেলা সমবায় কার্যালয়ের তথ্যমতে, সমবায় সমিতিগুলোর কাছে গ্রাহকের ৭৩০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আল-আকাবা, শতদল, স্বদেশ, নবদীপ, হলিটার্গেট ও রংধনু—এই ছয়টি সমিতিতেই ৭০০ কোটি টাকার বেশি রয়েছে। শুধু মাদারগঞ্জেই প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা আটকে আছে বলে তাঁদের হিসাব। এছাড়া ইসলামপুর, মেলান্দহ, সরিষাবাড়ী ও জামালপুর সদরে আরও হাজারো গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত।
উদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক শিবলুল বারী বলেন, ‘প্রশাসনের আচরণ রহস্যজনক মনে হচ্ছে। আমাদের দ্রুত সমাধান দরকার। জাতীয় নির্বাচনের আগেই সমাধানে আসতে হবে। রোববার থেকে ঘেরাও কর্মসূচির সঙ্গে নতুন ও কঠোর কর্মসূচি যোগ করা হবে। আন্দোলনকারীর সংখ্যাও বাড়ানো হবে।’
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির শাহ বলেন, ‘আমি আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। কিন্তু তাঁরা পুরো টাকার নিশ্চয়তা চান, যা আমার ক্ষমতার বাইরে। সমিতিগুলোর মালিক দীর্ঘদিন আত্মগোপনে আছেন। আমি প্রতিদিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলছি এবং সব তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি।’
















