যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আমেরিকার সংশয় ও অনীহা বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছে। তবে এ অবস্থায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসমূহ এবং বৈশ্বিক দক্ষিণকে প্রকৃত জলবায়ু নেতৃত্বের উদাহরণ স্থাপন করতে হবে বলে মত দিয়েছেন মালয়েশিয়ার সংসদ সদস্য নিক নাজমি নিক আহমাদ।
তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের জলবায়ু সংশয় জলবায়ু সংকটের বাস্তবতাকে বদলায় না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৭০০ মিলিয়ন মানুষের সংগঠন আসিয়ানসহ বৈশ্বিক দক্ষিণ এখন জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। সম্প্রতি ফিলিপাইনে আঘাত হানা টাইফুন টিনো ও উওয়ান এই বিপদের নতুন প্রমাণ।
নিক নাজমি বলেন, উন্নত বিশ্বকে এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোর কথা শুনতে হবে এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নমনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কঠোর ও একমাত্রিক নীতিতে জলবায়ু কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা প্রকৃত অগ্রগতিকে ব্যাহত করবে। তিনি আরও বলেন, টেকসই পরিবেশে বসবাসের অধিকার একটি মৌলিক মানবাধিকার, এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার রক্ষা মানেই মানবাধিকার রক্ষা করা।
তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু অর্থায়ন এখন কথার চেয়ে বাস্তব প্রয়োগে যেতে হবে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল প্রয়োজন হবে। ব্রাজিলের আয়োজনে আসন্ন COP30 সম্মেলনকে “অ্যাডাপটেশন ইমপ্লিমেন্টেশনের COP” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে মূল গুরুত্ব থাকবে বাস্তবায়নে।
তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি হতাশাজনক হলেও এটি বিশ্বের অন্য দেশগুলোর জন্য এক সুযোগ। চীন ইতোমধ্যেই কার্বন নিঃসরণ স্থিতিশীল করতে পেরেছে এবং ব্রাজিলের প্রস্তাবিত “ট্রপিক্যাল ফরেস্ট ফরএভার ফ্যাসিলিটি (TFFF)” উদ্যোগ বৈশ্বিক দক্ষিণের উদ্যোগ গ্রহণের সক্ষমতা প্রমাণ করছে। এ তহবিলের লক্ষ্য ১২৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ, যেখানে ইতোমধ্যে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
নিক নাজমি বলেন, এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে বৈশ্বিক দক্ষিণ নিজস্ব কাঠামো তৈরি করে জলবায়ু সমস্যার সমাধানে নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে উন্নত দেশগুলোর ন্যায্য জলবায়ু ক্ষতিপূরণ ও সহযোগিতা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, আসিয়ান দেশগুলোও নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ৪৭তম আসিয়ান সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি, যদিও আসিয়ান যৌথ বিবৃতিতে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
নিক নাজমির মতে, আসিয়ানের সক্ষমতা ও কূটনৈতিক অবস্থান রয়েছে বিভিন্ন বৈশ্বিক জোট যেমন চীন, ব্রিকস, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য। কিন্তু শুধুমাত্র ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, কার্যকর উদ্যোগের অভাবে আসিয়ান ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি নরম অবস্থানের অভিযোগে অভিযুক্ত হতে পারে। তাই এখন সময় এসেছে আসিয়ানের আরও দৃঢ়, প্রভাবশালী ও ঐক্যবদ্ধ জলবায়ু নেতৃত্ব দেখানোর।
উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্ব এখনো সময় পায়নি হারিয়ে ফেলেনি। সঠিক পদক্ষেপে উভয় পক্ষই এখনো জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জয়ী হতে পারে।















