ঢাকা, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই দেশে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কারের বিষয়ে গণভোটের আয়োজন করা হবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এই যুগান্তকারী নির্বাচন ও গণভোট একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ড. ইউনূস এই ঘোষণা দেন, যা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠনে একটি বড় পদক্ষেপ।
এক প্রশ্নে ৪টি মূল সংস্কার
ড. ইউনূস জানান, একই দিনে গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি আরও সাশ্রয়ী ও উৎসবমুখর হবে। গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার জন্য একটিমাত্র প্রশ্ন থাকবে, যা ৪টি মূল সংস্কারের বিষয়ে জনগণের সম্মতি চাইবে:
প্রশ্ন: ‘আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?’
এই প্রশ্নের অন্তর্ভুক্ত মূল প্রস্তাবনাগুলো হলো:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার: নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা।
- দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: সংসদকে দুই কক্ষ বিশিষ্ট করা। এতে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে, যার অনুমোদন ছাড়া সংবিধান সংশোধন সম্ভব হবে না।
- বাধ্যবাধকতা: সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ৩০টি বিষয়ে ঐকমত্য হওয়া সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ
প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ সূচক হলে, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে।
- এই পরিষদ তার প্রথম অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কারের কাজ শেষ করবে।
- সংস্কার সম্পন্ন হওয়ার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে।
অর্থনীতির ইতিবাচক ধারা
ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১৫ মাসে অর্থনীতিকে গভীর সংকট থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
- রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রিজার্ভসহ অর্থনীতির সবগুলো সূচকে দেশ ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে।
- লুট হয়ে যাওয়া ব্যাংকিং খাত ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে।
প্রধান উপদেষ্টা আশা করেন, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে একটি উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে।
















