দীর্ঘ ৪৩ দিনের স্থবিরতার পর অবশেষে শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম সরকারি অচলাবস্থা। বুধবার স্থানীয় সময় রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষর করেন বহুল আলোচিত ব্যয়বিলে, যার মাধ্যমে আবারও খুলে গেল ফেডারেল সরকারের দরজা।
ট্রাম্প বলেন, “আমার স্বাক্ষরের মাধ্যমে এখন থেকে ফেডারেল সরকার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসবে।” তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, জীবিকার ব্যয় কমাতে তাঁর প্রশাসন নতুন পদক্ষেপ নেবে।
এই বিলটি রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ২২২ থেকে ২০৯ ভোটে পাস হয়। এর আগে সেনেটও বিলটির অনুমোদন দেয়, যেখানে সাতজন ডেমোক্র্যাট ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য সমর্থন জানান। বিলের মেয়াদ আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত ফেডারেল ব্যয় বহন করবে।
অক্টোবরের প্রথম দিন থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থায় সরকারি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ছয় লাখ ৭০ হাজার কর্মচারীকে ছুটি দেওয়া হয় এবং সমান সংখ্যক কর্মকর্তা বেতন ছাড়া কাজ করেন। এখন তারা বকেয়া বেতন পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
এখন সবচেয়ে বড় স্বস্তি বিমান চলাচল শিল্পে। দীর্ঘ অচলাবস্থার কারণে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, তা থ্যাঙ্কসগিভিং উৎসবের ভ্রমণ মৌসুমের আগেই কাটিয়ে উঠার আশা দেখা দিয়েছে। এছাড়া খাদ্য সহায়তা পুনরায় চালু হলে নিম্ন আয়ের আমেরিকান পরিবারগুলোও কিছুটা স্বস্তি পাবে ক্রিসমাসের আগে।
তবে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য বিমা নিয়ে। ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর আওতায় থাকা এই ভর্তুকি নবায়ন না করার সিদ্ধান্তেই অটল ট্রাম্প প্রশাসন। ডিসেম্বরের মধ্যে এই বিষয়ে সেনেটে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
অচলাবস্থার দায় নিয়ে দুই দলের মধ্যে চলছে দোষারোপ। এক জরিপে দেখা গেছে, ৫০ শতাংশ আমেরিকান এর জন্য রিপাবলিকানদের দায়ী মনে করেন, অন্যদিকে ৪৭ শতাংশ দায় দেন ডেমোক্র্যাটদের ওপর।
বিল স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, “এইভাবে কোনো দেশ চালানো যায় না। আমরা কখনোই এমনটি হতে দিতে পারি না।” রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন বলেন, “তারা জানত এটি কষ্ট দেবে, তবুও তারা তা করেছে। এটি ভুল ছিল, নিষ্ঠুর ছিল।”
অন্যদিকে, নিউ জার্সির নবনির্বাচিত গভর্নর এবং ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য মিকি শেরিল বিদায়ী ভাষণে বলেন, “এই কংগ্রেস যেন একটি রাবার স্ট্যাম্পে পরিণত না হয়, যে প্রশাসন শিশুদের খাবার কাড়ে এবং স্বাস্থ্যসেবা কেড়ে নেয়।” তিনি আরও আহ্বান জানান, “দেশবাসী, দৃঢ় থাকো। যেমন আমরা নৌবাহিনীতে বলি, জাহাজ ছেড়ো না।”
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপ অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রুস ফাইন বলেন, “এই বিল রিপাবলিকানদের কোনো বিজয় নয়। জানুয়ারিতেই আবার আরেক দফা অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে।”
তিনি যোগ করেন, “বাজেট বণ্টন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে এখনো গভীর বিভেদ রয়েছে। একদিকে ধনীদের জন্য কর ছাড়, অন্যদিকে দরিদ্র ও চিকিৎসা সহায়তার তহবিলে কাটছাঁট—এই দ্বন্দ্বের কোনো সমাধান এখনো হয়নি।”
অর্থনীতিবিদদের হিসেবে, অচলাবস্থার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মোট উৎপাদনে প্রতি ছয় সপ্তাহে প্রায় এক দশমাংশ শতাংশ হ্রাস ঘটেছে। যদিও বিশ্লেষকরা আশাবাদী, আসন্ন মাসগুলোতে এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সমাপ্তি স্বস্তির হলেও পরবর্তী জানুয়ারিই বলে দেবে—এই শান্তি কতটা স্থায়ী।
















