পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে জেলা আদালতের সামনে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ১২ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় চারদিকে ছিটকে পড়ে রক্ত, ধ্বংসস্তূপ আর আতঙ্কের ছায়া।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি জানান, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী আদালতের গেটের বাইরে একটি পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটায়। তিনি বলেন, “হামলাকারী আদালতের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল, ব্যর্থ হয়ে বাইরে বিস্ফোরণ ঘটায়।”
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই হামলাকে ভারতের “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের এক জঘন্য উদাহরণ” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব সম্প্রদায়ের এখনই ভারতের এই নোংরা ষড়যন্ত্রের নিন্দা জানানো উচিত।”
ইসলামাবাদের আদালত প্রাঙ্গণ প্রতিদিনই মামলার পক্ষ-বিপক্ষ ও সাধারণ মানুষের ভিড়ে সরগরম থাকে। সেই জনাকীর্ণ প্রবেশপথেই ঘটে এই রক্তাক্ত বিস্ফোরণ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধোঁয়া ও চিৎকারের শব্দ।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেলে। কাঁটাতার ও ব্যারিকেড বসিয়ে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন আদালতে আগত মামলার পক্ষ বা পথচারী।
রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
এদিকে কোনো গোষ্ঠী এখনো হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে পূর্বে এমন হামলা চালিয়েছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামের সংগঠন। পুলিশ জানিয়েছে, ফরেনসিক দলের রিপোর্ট আসার পর হামলার প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
এই হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি ক্যাডেট কলেজে সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। সেখানে এক আত্মঘাতী গাড়িবোমার সঙ্গে আরও পাঁচ সশস্ত্র যোদ্ধা ছিল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, “দেশ এখন যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। এই হামলা আমাদের জন্য এক জাগরণের ঘণ্টা।” তিনি আফগানিস্তানের শাসকদের উদ্দেশে সতর্ক করে বলেন, “যুদ্ধ ইসলামাবাদ পর্যন্ত নিয়ে আসা এক স্পষ্ট বার্তা, এবং পাকিস্তান তার জবাব দিতে প্রস্তুত।”
পাকিস্তান অভিযোগ করছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ডে টিটিপিসহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। গত মাসে পাকিস্তান আফগান সীমান্তে বিমান হামলা চালায়, যার জবাবে তালেবানও পাল্টা হামলা করে। উভয় দেশের সীমান্তে সেই সংঘর্ষে প্রাণ হারায় অন্তত ৭৩ জন।
এ ঘটনার একদিন আগেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও একটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। লালকেল্লার কাছের সেই ঘটনার তদন্তে ভারত সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করেছে।
ইসলামাবাদের রক্তাক্ত বিকেল যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—দক্ষিণ এশিয়ার আকাশে এখনো শান্তির মেঘ ঘনিয়ে উঠতে পারেনি। শহরের বাতাসে ধোঁয়া আর বারুদের গন্ধে ভাসছে শোক, শঙ্কা আর প্রতিশোধের প্রতিধ্বনি।
















