Dhaka ১০:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ইরাক থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

ইরাকে অবস্থানরত সর্বশেষ মার্কিন সেনাদল এবং আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যরা দেশটি থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে গেছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও তাদের সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধ ও বিদেশি সামরিক উপস্থিতির পর সম্পন্ন হওয়া এই প্রত্যাহারের মাধ্যমে ইরাক সরকার নিজেদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করল।

২০০৩ সালে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী বৈশ্বিক যুদ্ধ’-এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট প্রথম ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস বা ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর তারা পুনরায় সেনা মোতায়েন করতে বাধ্য হয়। ২০১৭ সালে আইএসের নিয়ন্ত্রित ভূখণ্ডের পতনের পর থেকে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জোটের ভূমিকা ধীরে ধীরে কেবল পরামর্শদাতা পর্যায়ে নেমে আসে এবং গত বছরের শেষ দিকে অবশিষ্ট কয়েকশ বিদেশি সেনাকে এরবিলে একত্র করা হয়েছিল। পেন্টাগন জানিয়েছে, এই সেনা প্রত্যাহার মূলত ইরাকে আইএসকে একটি সংগঠিত সামরিক শক্তি হিসেবে পরাজিত করার ১২ বছরের অভিযানের চূড়ান্ত সাফল্য।

এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধকালীন জোটের অভিযান থেকে ইরাকের নেতৃত্বাধীন নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থায় একটি বড় রূপান্তর সূচিত হলো। এখন থেকে ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইএসের অবশিষ্ট সদস্য দমন এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবিলার মতো চ্যালেঞ্জগুলো সম্পূর্ণভাবে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী এবং কুর্দিস্তানের পেশমার্গা বাহিনী নিজস্ব নেতৃত্বেই পরিচালনা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের মিত্রদের প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে সেনা প্রত্যাহারের এই চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত জোরালোভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। ২০২০ সালেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বা তাঁর ভাষায় ‘ব্যয়বহুল নরকযাত্রা’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাবেক ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির মধ্যে চূড়ান্ত সেনা প্রত্যাহারের এই রূপরেখাটি সম্মত হয়। ট্রাম্প এই দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক উভয় দেশের জন্যই একটি বিরাট বিজয় এবং আইএসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাফল্যের এক অনন্য স্মারক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ইরাক থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

ইরাকে অবস্থানরত সর্বশেষ মার্কিন সেনাদল এবং আন্তর্জাতিক জোটের সদস্যরা দেশটি থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে গেছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা ও তাদের সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধ ও বিদেশি সামরিক উপস্থিতির পর সম্পন্ন হওয়া এই প্রত্যাহারের মাধ্যমে ইরাক সরকার নিজেদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করল।

২০০৩ সালে তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবিরোধী বৈশ্বিক যুদ্ধ’-এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট প্রথম ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে দেশটিতে মার্কিন সেনার সংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজারে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করে নিলেও ২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস বা ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর তারা পুনরায় সেনা মোতায়েন করতে বাধ্য হয়। ২০১৭ সালে আইএসের নিয়ন্ত্রित ভূখণ্ডের পতনের পর থেকে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক জোটের ভূমিকা ধীরে ধীরে কেবল পরামর্শদাতা পর্যায়ে নেমে আসে এবং গত বছরের শেষ দিকে অবশিষ্ট কয়েকশ বিদেশি সেনাকে এরবিলে একত্র করা হয়েছিল। পেন্টাগন জানিয়েছে, এই সেনা প্রত্যাহার মূলত ইরাকে আইএসকে একটি সংগঠিত সামরিক শক্তি হিসেবে পরাজিত করার ১২ বছরের অভিযানের চূড়ান্ত সাফল্য।

এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধকালীন জোটের অভিযান থেকে ইরাকের নেতৃত্বাধীন নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থায় একটি বড় রূপান্তর সূচিত হলো। এখন থেকে ইরাকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইএসের অবশিষ্ট সদস্য দমন এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবিলার মতো চ্যালেঞ্জগুলো সম্পূর্ণভাবে ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনী এবং কুর্দিস্তানের পেশমার্গা বাহিনী নিজস্ব নেতৃত্বেই পরিচালনা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের মিত্রদের প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে সেনা প্রত্যাহারের এই চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত জোরালোভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। ২০২০ সালেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ বা তাঁর ভাষায় ‘ব্যয়বহুল নরকযাত্রা’ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং সাবেক ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানির মধ্যে চূড়ান্ত সেনা প্রত্যাহারের এই রূপরেখাটি সম্মত হয়। ট্রাম্প এই দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাক উভয় দেশের জন্যই একটি বিরাট বিজয় এবং আইএসের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাফল্যের এক অনন্য স্মারক হিসেবে অভিহিত করেছেন।