উত্তর আফ্রিকার দুই প্রতিবেশী দেশ আলজেরিয়া ও মরক্কোর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন শুধু সীমান্ত বিরোধেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি কূটনীতি, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, জ্বালানি, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণেও গভীর প্রভাব ফেলছে। এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মরক্কোর বিরোধিতা আলজেরিয়ার অন্যতম স্থায়ী নীতিগত ভিত্তিতে পরিণত হলেও এটিই দেশটির একমাত্র রাষ্ট্রীয় কৌশল নয়।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাধীনতার পর সীমান্ত বিরোধ, পরবর্তীতে পশ্চিম সাহারা প্রশ্ন এবং একাধিক কূটনৈতিক সংকট দুই দেশের সম্পর্ককে ক্রমেই বৈরিতার দিকে নিয়ে গেছে। সময়ের সঙ্গে এই প্রতিযোগিতা সামরিক প্রস্তুতি, আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তার, জ্বালানি রপ্তানি, আন্তর্জাতিক জোট এবং আঞ্চলিক নেতৃত্বের প্রশ্নেও বিস্তৃত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম সাহারা ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে। এ প্রশ্নে উভয় দেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা সীমিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এই বিরোধ উত্তর আফ্রিকায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক একীকরণকেও দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিশ্লেষক মনে করেন, আলজেরিয়ার সামনে অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা, পানি ও খাদ্য নিরাপত্তাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে মরক্কোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এমন একটি স্থায়ী নীতিগত কাঠামোতে পরিণত হয়েছে, যা দেশটির বহু পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
এতে আরও বলা হয়েছে, দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতার কারণে উত্তর আফ্রিকার আঞ্চলিক বাণিজ্য বিশ্বের অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। সীমান্ত বন্ধ থাকা, যৌথ অবকাঠামো প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়া এবং প্রতিযোগিতামূলক উন্নয়ন পরিকল্পনার কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে পুরো অঞ্চল।
বিশ্লেষণে উপসংহারে বলা হয়েছে, পশ্চিম সাহারা প্রশ্নের তাৎক্ষণিক সমাধান কঠিন হলেও নিরাপত্তা, বাণিজ্য, পরিবহন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে আস্থা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যথায় দীর্ঘস্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা উত্তর আফ্রিকার উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথে বড় বাধা হয়ে থাকবে।
















