প্রশান্ত মহাসাগরের নীল গভীরতায় আবারও ঝড় তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে, যেগুলোতে মাদক পাচারের অভিযোগ ছিল। এতে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন।
রবিবারের এই অভিযানের বিষয়টি সোমবার নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তাঁর ভাষায়, “আমাদের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ওই দুটি নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পরিচিত একটি রুট ধরে চলছিল। আমরা হামলা চালিয়েছি—তারা সবাই নিহত হয়েছে, আর আমাদের কোনো সেনা আহত হয়নি।”
তবে এই অভিযানে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে। দেশটির অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে, এমন হামলা আইনের সীমা অতিক্রম করছে এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার নজির তৈরি করছে।
ওয়াশিংটন এসব অভিযানে যেন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। এই মাসেই প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় সাগরে এটি ছিল চতুর্থ হামলা। আগের হামলাগুলোয় অন্তত আটজন নিহত হয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নৌযানবিরোধী এই সামরিক অভিযান শুরু করে, প্রথমে ক্যারিবীয় অঞ্চলে, পরে তা সম্প্রসারিত হয় প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত।
এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১৮টি হামলা চালিয়েছে, যাতে বহু প্রাণ ঝরে গেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভল্কার টার্ক সম্প্রতি এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “এই আক্রমণগুলোর কোনো ন্যায্যতা নেই, এবং এর মানবিক মূল্য অসহনীয়। যুক্তরাষ্ট্রকে এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।”
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এসব অভিযানকে “সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ” বলে ব্যাখ্যা করছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র মাদক চোরাচালানকারী চক্রগুলোকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
হেগসেথ বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমরা আমাদের দেশকে রক্ষা করছি এবং এই কার্টেল সন্ত্রাসীদের নির্মূল করছি, যারা আমাদের জনগণকে ক্ষতি করতে চায়।”
তবে প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোনো দৃঢ় প্রমাণ প্রকাশ করেনি যে, ধ্বংস হওয়া নৌযানগুলো সত্যিই মাদক বহন করছিল। কেবল ঝাপসা ভিডিও ফুটেজই প্রকাশ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ট্রাম্প রসিকতার সুরে বলেছেন, “ক্যারিবীয় অঞ্চলে এখন জেলেরা পর্যন্ত ভয়ে মাছ ধরতে পারছে না।”
সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, যদি এই নৌযানগুলো আসলেই মাদক পাচারকারী হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র কেন সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে নিজস্ব জলসীমায় প্রবেশের পর আটক করছে না—বরং কেন সাগরের মাঝখানে মানুষ হত্যা করছে?
এই হামলাগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনাও বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো “নার্কোটেররিস্টদের” সঙ্গে যুক্ত।
এদিকে, প্রশান্ত মহাসাগরে ক্রমবর্ধমান মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দেখে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ওয়াশিংটন হয়তো তেলসমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে আরও বড় সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে ট্রাম্প সম্প্রতি এক বক্তৃতায় বলেছেন, যুদ্ধের আশঙ্কা এখনো নেই, কিন্তু “মাদুরোর সময় ফুরিয়ে এসেছে।”
















