আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছে জার্মানির এক ভয়াবহ প্রশাসনিক ভুল। উয়ঘুর মুসলিম নারী রেজিওয়ানগুলি বাইকেলিকে ভুলবশত তুরস্কের বদলে চীনে ফেরত পাঠিয়েছে জার্মান কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো একে বলছে “জীবনসংকট ডেকে আনা এক ভয়ানক ভুল”।
ডের স্পিগেল পত্রিকার খবর অনুযায়ী, ৫৬ বছর বয়সী এই নারীকে গত সপ্তাহে জার্মানি থেকে চীনে পাঠানো হয়। তবে ভাগ্যের জোরে তিনি বেইজিংয়ে স্বল্প সময় অবস্থানের পর দ্রুতই সেখান থেকে বের হয়ে তুরস্কে ফিরে যেতে সক্ষম হন।
মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান জেঞ্জ বলেছেন, “এটি স্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন, যা ওই নারীর জীবনকে চরম বিপদের মুখে ফেলেছিল। কেবল সৌভাগ্যের কারণেই তিনি আজ জীবিত আছেন।”
বাইকেলি ২০১৭ সালে নিজের মেয়ে নিয়ে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চল থেকে পালিয়ে তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিযোগ উঠেছিল, চীন মুসলিম উয়ঘুর জনগোষ্ঠীকে দমন করতে ‘পুনঃশিক্ষা শিবিরে’ আটক করে রাখছে এবং সেখানে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন চলছে। যদিও বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
২০২৪ সালে বাইকেলি মেয়ের সঙ্গে থাকার জন্য তুরস্ক থেকে জার্মানিতে যান এবং আশ্রয় প্রার্থনা করেন। কিন্তু জার্মানির ফেডারেল অভিবাসন দপ্তর (BAMF) তার আশ্রয় আবেদন নাকচ করে তাকে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ বাস্তবায়নের সময় এক ভয়াবহ ভুল করে বসে। তারা দেখে বাইকেলির হাতে রয়েছে চীনা পাসপোর্ট, কিন্তু কোনো তুর্কি পরিচয়পত্র নেই। যেহেতু আদেশে স্পষ্টভাবে চীনে ফেরত পাঠানোর নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তারা তাকে সরাসরি বিমানে তুলে দেয় বেইজিংগামী ফ্লাইটে।
সৌভাগ্যক্রমে, বেইজিং পৌঁছে বাইকেলি আটক হননি। তিনি দ্রুত মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই দুবাই হয়ে ইস্তাম্বুলের একটি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে তাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনেন।
জার্মান সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্র এই ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে। তবে BAMF ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
যদিও জার্মান আইন উয়ঘুরদের চীনে ফেরত পাঠানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করেনি, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের “সুরক্ষা প্রদানের” নীতি চালু রয়েছে।
সর্বশেষ ২০১৮ সালে জার্মানি কোনো উয়ঘুর নাগরিককে চীনে ফেরত পাঠিয়েছিল বলে জানা যায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, চীন জিনজিয়াং অঞ্চলে এক মিলিয়নেরও বেশি মুসলিমকে তথাকথিত “পুনঃশিক্ষা শিবিরে” বন্দি করে রেখেছে।
বেইজিং অবশ্য তা অস্বীকার করে বলছে, এসব উদ্যোগ চরমপন্থা নির্মূলে সহায়ক।
তবে রেজিওয়ানগুলি বাইকেলির এই ঘটনা যেন স্মরণ করিয়ে দিল—একটি প্রশাসনিক ভুলও কখনও কখনও হতে পারে জীবনের মৃত্যুঘণ্টা। ভাগ্য না থাকলে হয়তো তার নাম আজ যোগ হতো জিনজিয়াংয়ের নিঃশব্দ কণ্ঠগুলোর তালিকায়।
















