দশম গ্রেড, শতভাগ পদোন্নতি ও চাকরির উচ্চতর গ্রেডের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা আন্দোলন চালাচ্ছেন
১০ নভেম্বর ২০২৫ :
শহীদ মিনারে অবস্থানরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নেতারা রবিবার সন্ধ্যায় অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তারা দশম গ্রেডে বেতন পুনর্গঠন, শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি এবং চাকরির নির্দিষ্ট বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন। গতকাল শাহবাগে তাদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।
ঢাকা:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থানরত অবস্থায় রবিবার সন্ধ্যায় অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
শিক্ষকরা এ দিন বিকেলে কালো কাপড় মুখে বেঁধে পুলিশি হামলার প্রতিবাদ করেছেন। তাদের আন্দোলন শহীদ মিনারে অবস্থান ও বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি নিয়ে চলছে। শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,
“আজ ১১টি শিক্ষক সংগঠন আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছে। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেব।”
বিকেল পৌনে চারটায় শিক্ষকরা কাফনের কাপড় হাতে শপথ নেন দশম গ্রেড এবং শতভাগ পদোন্নতি ছাড়া তারা কোনো অবস্থাতেই ফিরে যাবেন না।
শিক্ষক নেতা আনিসুর রহমান আনিস বলেন,
“একই যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা দশম গ্রেড পাচ্ছেন, কিন্তু আমাদের ১৩তম গ্রেডে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েট হয়ে আমাদের দিনমজুরের অর্ধেক বেতনে কাজ করতে হয়।
যখন বেতন-ভাতা বৃদ্ধির আলোচনা হয়, তখন কোষাগারে টান পড়ে। অথচ দেশে শত কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। আমরা আমাদের ন্যায্য দাবি জানিয়েছি। কিন্তু গতকাল শাহবাগে আমাদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে।”
বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে বেতন পান। তাদের আন্দোলনের মূল দাবি হলো:
- দশম গ্রেডে বেতন পুনর্গঠন
- শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি
- চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড
শিক্ষকদের আন্দোলন দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ন্যায্য বেতন ও পদোন্নতির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
















