প্রাচীন গ্রিক মহাকাব্য ওডিসি-র কিংবদন্তির নায়ক ওডিসিউস শুধু সাহিত্যিক চরিত্রই ছিলেন না, বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাকে ধর্মীয়ভাবে পূজা করা হতো—এমন নতুন প্রমাণ পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। গ্রিসের ইথাকা দ্বীপে পরিচালিত খননকাজে তার নামে উৎসর্গীকৃত উপাসনালয়, মুদ্রা, ছাদের টালি এবং অন্যান্য নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে, যা প্রাচীন গ্রিক সমাজে ওডিসিউসের বিশেষ মর্যাদার ইঙ্গিত দেয়।
গবেষকদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব নবম শতক থেকে ওডিসিউসকে কেন্দ্র করে এই বীর-উপাসনা শুরু হয় এবং ওডিসি লিখিত আকারে সংরক্ষিত হওয়ার পর তা আরও বিস্তৃত হয়। সর্বশেষ গবেষণায় ইওয়ানিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিকরা ইথাকার ‘হোমারের স্কুল’ নামে পরিচিত স্থাপনার ধ্বংসাবশেষে এমন নিদর্শন পেয়েছেন, যা এটিকে ওডিসিউসের উপাসনাকেন্দ্র বা ‘ওডিসেইয়ন’ হিসেবে চিহ্নিত করতে সহায়তা করেছে।
খননকাজে পাওয়া ব্রোঞ্জের মুদ্রায় দাড়িওয়ালা ওডিসিউসের প্রতিকৃতি এবং ছাদের টালিতে তার নাম উৎকীর্ণ রয়েছে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাচীন গ্রিসে দেবতাদের উপাসনালয়ে যেভাবে তাদের নাম খোদাই করা হতো, একই ধরনের নিদর্শন ওডিসিউসের ক্ষেত্রেও পাওয়া গেছে। এছাড়া একটি টালিতে ‘ওডিসিউসের উদ্দেশে’ উৎসর্গমূলক লেখা পাওয়া গেছে, যা তীর্থযাত্রীদের উপাসনার অংশ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, ইথাকায় ওডিসিউসকে উৎসর্গ করে ‘ওডিসেইয়া’ নামে একটি উৎসবও আয়োজন করা হতো। সেখানে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, মহাকাব্য আবৃত্তি এবং ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি ওডিসিউস ও দেবী অ্যাথেনার উদ্দেশে পশু বলির মতো অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন গবেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীন গ্রিসে পৌরাণিক বীরদের উপাসনা ছিল সামাজিক পরিচয়, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং নগর-রাষ্ট্রের ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও ওডিসিউস বাস্তব ঐতিহাসিক ব্যক্তি ছিলেন—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি, তবুও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলো দেখায় যে তিনি প্রায় এক হাজার বছর ধরে মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।
















