ইউক্রেন যুদ্ধের চতুর্থ বছরের বেশি সময় পার হওয়ার পর রাশিয়ায় আবারও নগদ অর্থ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে ডিজিটাল লেনদেন ব্যাহত হওয়া এবং বাড়তি করের চাপ এড়াতে অনেক ব্যবসা নগদ লেনদেনে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছে বিবিসির এক বিশ্লেষণ।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে বাজারে নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ৫৬ ট্রিলিয়ন রুবল বেড়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ছাড়া বছরের প্রথমার্ধে এটি সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি। ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ঠেকাতে নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখায় অনেক মানুষ কার্ডে অর্থ পরিশোধ করতে না পেরে নগদ অর্থ সঙ্গে রাখছেন।
একই সময়ে রাশিয়ার অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে। সরকার চলতি বছরে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ২০ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে উন্নীত করেছে এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য কর পরিশোধের সীমাও কমিয়েছে। ফলে ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ, বিউটি সেলুন ও ছোট দোকানসহ অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের নগদ অর্থে পরিশোধে উৎসাহিত করছে, যাতে প্রকৃত আয় কম দেখিয়ে করের বোঝা কমানো যায়।
রাশিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যাংক সবারব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা তারাস স্কভরৎসভ সতর্ক করে বলেছেন, নগদ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আর আগের মতো ফিরে আসছে না। একই সঙ্গে কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের অনানুষ্ঠানিকভাবে নগদ বেতন পরিশোধ করছে, যা সরকারের কর আদায়কে আরও কঠিন করে তুলছে।
রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন। যদিও তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে জ্বালানি খাত থেকে কিছু অতিরিক্ত আয় হচ্ছে, তবুও সামগ্রিক অর্থনীতি ধীরগতিতে রয়েছে এবং বাজেট ঘাটতি বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে সরকার কর আদায় বাড়াতে কঠোর নীতি গ্রহণ করছে, অন্যদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপ নগদ অর্থের ব্যবহার বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে কর ফাঁকি রোধ, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধকালীন অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা রাশিয়ার জন্য আরও জটিল হয়ে উঠছে।
















