চীনের রাষ্ট্রীয় সমর্থিত সংবাদপত্র চায়না ডেইলি প্রকাশিত কয়েকটি ভিডিওতে ফিলিপিনোদের ‘বানর’ হিসেবে উপস্থাপন করার অভিযোগ তুলে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিপাইন। ম্যানিলার দাবি, এসব ভিডিও রাজনৈতিক সমালোচনার সীমা ছাড়িয়ে বর্ণবাদী ও মানবিক মর্যাদাহানিকর উপস্থাপনার শামিল।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারো বিষয়টি ফিলিপাইনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের কাছে সরাসরি উত্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে বেইজিংয়ে ফিলিপাইনের দূতাবাস চায়না ডেইলির সম্পাদককে একটি উন্মুক্ত চিঠি পাঠিয়ে সম্পাদকীয় নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে এবং সংবাদমাধ্যমটিকে মর্যাদা, সম্মান ও সত্যনিষ্ঠা বজায় রাখার আহ্বান জানায়।
বিতর্কিত ভিডিওগুলো ২০১৬ সালের দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায়ের দশম বার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশ করা হয়। ওই রায়ে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ফিলিপাইনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরের বিস্তীর্ণ অংশের ওপর চীনের দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে উল্লেখ করেছিল। তবে বেইজিং সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে এখনো অধিকাংশ জলসীমার ওপর নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে।
দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ ও স্কারবরো শোলকে কেন্দ্র করে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের কোস্টগার্ড ও ফিলিপাইনের জাহাজের মধ্যে একাধিক মুখোমুখি অবস্থান, সংঘর্ষ এবং জলকামান ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
ফিলিপাইন এই বিরোধে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি মিত্র দেশের কূটনৈতিক সমর্থন পেয়েছে। চলতি মাসে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দেশ ২০১৬ সালের আন্তর্জাতিক সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায়কে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বলে পুনর্ব্যক্ত করে এবং বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তিমূলক একতরফা পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়।
প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা চায়না ডেইলি ফিলিপাইনের এই কূটনৈতিক প্রতিবাদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
















