যুক্তরাজ্য সরকার ব্রিটিশ স্টিলকে রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। বেইজিং বলেছে, এই পদক্ষেপ চীনা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিষয়টির ন্যায্য ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান প্রত্যাশা করছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ব্রিটিশ স্টিল জাতীয়করণের বিষয়টি চীনে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। তাদের মতে, যুক্তরাজ্য কীভাবে এই ইস্যু সামাল দেয়, তা দেশটিতে চীনা বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ পরিবেশ এবং ব্রিটিশ সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে চীনা জনগণের ধারণাকে প্রভাবিত করবে।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য সরকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে লোকসানগ্রস্ত ব্রিটিশ স্টিলকে পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে চীনের জিংয়ে গ্রুপের মালিকানায় ছিল। যুক্তরাজ্যের দাবি, দেশটির ইস্পাত শিল্প, কর্মসংস্থান, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল।
অন্যদিকে জিংয়ে গ্রুপ জানিয়েছে, ব্রিটিশ স্টিলে বিনিয়োগের ফলে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য তারা যুক্তরাজ্যের কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবে। ২০২০ সালে প্রায় ৭ কোটি পাউন্ডে ব্রিটিশ স্টিল অধিগ্রহণ করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে ২০২৫ সালে তারা দাবি করে, কোম্পানিটি প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ পাউন্ড লোকসান গুনছিল।
ব্রিটিশ স্টিল বর্তমানে যুক্তরাজ্যের একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যা দেশটিতে প্রাথমিক পর্যায়ের ইস্পাত উৎপাদন করে। স্কানথর্প কারখানায় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কর্মী কাজ করেন এবং এর সঙ্গে আরও কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে যুক্তরাজ্য জি-৭ভুক্ত একমাত্র দেশ হয়ে পড়ত, যার নিজস্ব প্রাথমিক ইস্পাত উৎপাদনের সক্ষমতা থাকত না।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিটিশ স্টিল জাতীয়করণ শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানা পরিবর্তনের বিষয় নয়; এটি যুক্তরাজ্য ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিদেশি বিনিয়োগ এবং জাতীয় নিরাপত্তা নীতিকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক আলোচনারও জন্ম দিতে পারে।
















