ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা ওয়াশিংটনকে ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেবে। তিনি অভিযোগ করেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) বারবার লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই চুক্তিকে অকার্যকর করে তুলেছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক লিখিত বিবৃতিতে খামেনি বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভঙ্গের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই। তার ভাষায়, ‘আধিপত্যবাদ, জবরদস্তি ও আগ্রাসন’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করতে চায়, তবে ইরান ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ এমন জবাব দেবে যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না। একই সঙ্গে দেশবাসীকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সেতু, রেলপথ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান কুয়েতের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যার পর দেশটিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সতর্কতা জারি করা হয়।
একই সময়ে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে করা হয়েছিল। তবে পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যেই তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়েই চুক্তিটিকে কার্যত অকার্যকর বলে ঘোষণা করেছে।
















