কাতারের সাবেক আমির ও ‘ফাদার আমির’ শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা যাওয়ার পর তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা দোহা সফর করছেন। ১৯৯৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসনকারী শেখ হামাদ রোববার ৭৪ বছর বয়সে মারা যান। তার মৃত্যুর পর কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি লুসাইল প্রাসাদে তিন দিনব্যাপী শোকগ্রহণ কর্মসূচিতে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাচ্ছেন।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা থেকে শোক জানাতে এসেছেন বাহরাইনের যুবরাজ সালমান বিন হামাদ আল খলিফা, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালিদ আল-হামাদ আল-সাবাহ, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম ও প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা, ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমিদি, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও আজমানের যুবরাজ শেখ আম্মার বিন হুমাইদ আল নুয়াইমি, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন নায়েফ, ওমানের উপপ্রধানমন্ত্রী সাইয়্যিদ শিহাব বিন তারিক আল সাঈদ, মরক্কোর প্রধানমন্ত্রী আজিজ আখানুশ এবং লিবিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান আবদুল হামিদ দবেইবা।
এ ছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC)-এর মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আলবুদাইউই এবং আরব লীগের মহাসচিব নাবিল ফাহমিও শোক জানাতে লুসাইল প্রাসাদে উপস্থিত হয়েছেন।
ইউরোপ থেকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, সুইজারল্যান্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইগনাজিও ক্যাসিস এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো কাতার সফর করে সমবেদনা জানিয়েছেন।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নেতাদের মধ্যেও ছিলেন মৌরিতানিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ উলদ গাজুয়ানি, কোমোরোসের প্রেসিডেন্ট আজালি আসুমানি, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে এবং ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ।
দক্ষিণ এশিয়া থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইতোমধ্যে দোহায় গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন। ভারতের পক্ষ থেকে সংসদীয় ও সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাতার সফরের কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুও শোক জানাতে লুসাইল প্রাসাদে উপস্থিত হন।
এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ত তোকায়েভও কাতারে এসে সমবেদনা জানিয়েছেন।
শেখ হামাদকে আধুনিক কাতারের রূপকার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার নেতৃত্বে দেশটি জ্বালানি, কূটনীতি, শিক্ষা, গণমাধ্যম এবং অবকাঠামো খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত হয়। তার মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের নেতা, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা শোক প্রকাশ করছেন।
















