চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা: সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি বাম জোটের
চট্টগ্রাম, ৯ নভেম্বর ২০২৫: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাম রাজনৈতিক জোট। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এই কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে জোটটি।
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর পুরনো রেলস্টেশন চত্বরে বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশ থেকে এই ঘোষণা আসে।
কর্মসূচির ঘোষণা ও আন্দোলনের গতিপথ
- স্লোগান: ‘জনমত উপেক্ষা করে লাভজনক চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের ইজারা দেওয়া চলবে না’ স্লোগানে এই গণসমাবেশ আয়োজিত হয়।
- বিক্ষোভ কর্মসূচি: সারা দেশে ৯ থেকে ২৩ নভেম্বর বিক্ষোভ কর্মসূচি চলবে।
- কঠোর হুঁশিয়ারি: এই সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করা হবে। এতেও ফল না এলে হরতাল ও অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
নেতাদের বক্তব্য ও অভিযোগ
সমাবেশে বাম জোটের নেতারা অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন:
- সিপিবি সাবেক সভাপতি শাহ আলম: বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম বলেন, “জনগণের মত উপেক্ষা করে দেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই।” তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘দেশবিরোধী চক্রান্ত’ উল্লেখ করে বলেন, “বুকের রক্ত দিয়ে হলেও আমরা বন্দর রক্ষা করব।”
- বজলুর রশিদ ফিরোজ (বাম গণতান্ত্রিক জোট সমন্বয়ক): তিনি অভিযোগ করেন, “অন্তর্বর্তী সরকার সাম্রাজ্যবাদীদের স্বার্থে একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।” তিনি সরকারের যুক্তিকে (বিদেশি কোম্পানিতে দক্ষতা বৃদ্ধি) প্রশ্নবিদ্ধ করে বলেন, “যাদের হাতে দেশের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন ব্যর্থ—তাদের এই যুক্তি টেকে না। যদি তাই হয়, তাহলে কি আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বও বিদেশিদের হাতে দিতে হবে?”
- চুক্তি নিয়ে অভিযোগ: বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার ডিসেম্বরের মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করতে চায়, অথচ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে অব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। তারা দাবি করেন, ইজারার আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বন্দর মাশুল ৪১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট
চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া সেই প্রক্রিয়া এখন অন্তর্বর্তী সরকারও এগিয়ে নিচ্ছে।
শনিবারের গণসমাবেশ ও মশাল মিছিল ছিল চলমান আন্দোলনের অংশ। এর আগে গত ২২ অক্টোবর শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) বিক্ষোভ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং পরে ঢাকায় ও চট্টগ্রামে অনশন কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশ শেষে বাম রাজনৈতিক জোটের নেতাকর্মীরা রেলস্টেশন চত্বর থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত মশাল মিছিল করেন।
















