বিশ্বের অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় সবচেয়ে কম দেহতাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে আর্কটিক অঞ্চলের একটি বিশেষ প্রজাতির কাঠবিড়ালি। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রাণীটির এই অনন্য সক্ষমতা ভবিষ্যতে হৃদ্রোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কে আঘাতসহ বিভিন্ন জরুরি চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
শীতনিদ্রার সময় প্রাণীটির দেহের তাপমাত্রা হিমাঙ্কেরও নিচে নেমে যায়। এ সময় হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাস অত্যন্ত ধীর হয়ে আসে এবং বিপাকক্রিয়াও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এমন অবস্থায় এটি দীর্ঘ কয়েক মাস খাদ্য ও পানি ছাড়াই বেঁচে থাকতে সক্ষম হয়।
গবেষকদের মতে, মানুষের শরীরেও যদি নিরাপদভাবে একই ধরনের বিপাকক্রিয়া ধীর করা সম্ভব হয়, তাহলে জরুরি রোগীদের চিকিৎসার জন্য মূল্যবান সময় পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে হৃদ্রোগে আক্রান্ত, মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হওয়া কিংবা গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জীবন রক্ষায় এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণীটির শরীরে কিছু জৈব রাসায়নিক উপাদান এবং মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়বিক প্রক্রিয়া শীতনিদ্রা শুরু করতে সহায়তা করে। এসব বিষয় নিয়ে বিজ্ঞানীরা ওষুধ তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন, যাতে মানুষের শরীরেও নিয়ন্ত্রিতভাবে এমন অবস্থা সৃষ্টি করা যায়।
এ ছাড়া প্রাণীটির শরীর দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলেও পেশির ক্ষয় খুব কম হয়। এই বৈশিষ্ট্য দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী রোগীদের পেশি ক্ষয় রোধে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকেরা।
বিজ্ঞানীদের মতে, গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি অঙ্গ প্রতিস্থাপন, ক্যানসারের চিকিৎসা, জরুরি চিকিৎসাসেবা এমনকি দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
















