ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দিরকে ঘিরে ওঠা কোটি কোটি রুপির অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পুলিশের তদন্ত, একাধিক গ্রেপ্তার এবং মন্দির ট্রাস্টের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ঘটনায় বিষয়টি এখন উত্তর প্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ও ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালে উদ্বোধনের পর থেকেই রাম মন্দিরে লাখো ভক্তের সমাগম এবং বিপুল পরিমাণ অনুদান জমা পড়ে। সেই অনুদানের একটি বড় অংশ আত্মসাতের অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন মন্দির ট্রাস্টের সাবেক হিসাব তদারকি কর্মকর্তা মহিপাল সিং। এরপর বিরোধী সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব বিষয়টি সামনে এনে দাবি করেন, কোটি কোটি রুপি ও মূল্যবান দানের হিসাব মিলছে না।
বিতর্ক বাড়তে থাকলে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্তের পর পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করে এবং অনুদান গণনার সঙ্গে যুক্ত অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে অনেক ভক্ত অভিযোগ করেন, তারা মন্দিরে দান করা স্বর্ণালঙ্কার, রূপার ইট ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না। এসব অভিযোগের মধ্যে মন্দির ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাইসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ট্রাস্টি পদত্যাগ করেন।
অযোধ্যার অনেক হিন্দু ভক্তের দাবি, এই কেলেঙ্কারি শুধু অর্থ আত্মসাতের ঘটনা নয়, বরং ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। বাবরি মসজিদ ভাঙার ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন সন্তোষ দুবে অভিযোগ করেন, রাম মন্দির পরিচালনায় অসাধু ব্যক্তিরা যুক্ত হয়ে ভক্তদের আস্থাকে নষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের অপরাধের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।
বিরোধী নেতারা অভিযোগ করছেন, সরকার প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করে নিচু পর্যায়ের কর্মীদের বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধর্মীয় ইস্যুকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা বিজেপির জন্য এই দুর্নীতির অভিযোগ বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশের নির্বাচনের আগে। কারণ রাম মন্দির শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং বিজেপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রচারণার অন্যতম প্রধান প্রতীক।
















